গ্রিক দই খাওয়া এখন অনেক পরিবারেরই দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস হিসেবে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে একই ধরনের দই হলেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে স্বাদ ও গুণগত মান নিয়ে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। সম্প্রতি একজন মা তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি জনপ্রিয় সুপারমার্কেটের স্টোর-ব্র্যান্ড গ্রিক দই পরীক্ষা করেছেন। ট্রেডার জো’স, হোল ফুডস, কস্টকো আর ওয়েগম্যান্সের দই নিয়ে চালানো এই পরীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।
ট্রেডার জো’সের ননফ্যাট গ্রিক দই ছিল বেশ পাতলা টেক্সচারের। দামেও ছিল সবচেয়ে সস্তা—মাত্র ৫.৫০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছিল ৩২ আউন্সের প্যাক। তবে এর স্বাদ ছিল একটু বেশি টক, যেটা অনেকের কাছেই পছন্দনীয় নয় বলে জানিয়েছেন পরীক্ষক। অন্যদিকে হোল ফুডসের দই ছিল সবচেয়ে দামী—৬.৭০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছিল ৩২ আউন্সের প্যাক। এর স্বাদ ছিল মৃদু মিষ্টি, টকভাব একেবারেই কম। বেশ সুষম স্বাদ হওয়ায় স্মুদি তৈরির জন্য উপযুক্ত ছিল এই দই।
কস্টকোর কির্কল্যান্ড সিগনেচার ব্র্যান্ডের দই ছিল সবচেয়ে লাভজনক। ৬ ডলারে পাওয়া যাচ্ছিল ৪৮ আউন্সের বিশাল প্যাক। প্রতি আউন্স হিসেবে দাম বিবেচনা করলে এটি ছিল সবচেয়ে সাশ্রয়ী। তবে স্বাদে একটু বেশি টক থাকলেও দইটি ছিল বেশ গাঢ় ও পুষ্টিকর। ফলের সাথে মিশিয়ে বা গ্রানোলা যোগ করলে এটি বেশ উপভোগ্য হতো বলে মন্তব্য করেছেন পরীক্ষক।
সবশেষে আসে ওয়েগম্যান্সের অর্গানিক ননফ্যাট গ্রিক দই। ৬ ডলারে পাওয়া যাচ্ছিল ৩২ আউন্সের প্যাক। অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় সামান্য বেশি চিনি থাকলেও (৭ গ্রাম) স্বাদ ছিল বেশ মসৃণ ও হালকা টক। পরিবারের সবার কাছেই এটি বেশ পছন্দ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষক। বিশেষ করে তার মেয়েটি এই দই বেশি পছন্দ করেছে বলে সেটিকে লাঞ্চবক্সে সঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পরীক্ষার পর তিনি স্থায়ীভাবে তার ফ্রিজে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়েগম্যান্সের এই দই।
পরীক্ষাটি এমন সময়ে সামনে এলো যখন স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। গ্রিক দইয়ের মতো সহজলভ্য খাবারগুলোতে স্বাদ ও গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে পার্থক্য বুঝে সঠিক পছন্দটি করা এখন প্রয়োজনীয়। কেননা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পছন্দও পরিবর্তিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন