স্বয়ংচালিত গাড়ির ভবিষ্যত নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে অসম প্রতিযোগিতা। গুগলের ওয়েমো থেকে শুরু করে টেসলা—সবাই নিজেদের স্বপ্নের রোবট্যাক্সি পরিষেবা চালু করতে মরিয়া। ঠিক এমন এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্ডাই গ্রুপের মালিকানাধীন মার্কিন প্রতিষ্ঠান মোশন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরা মেজর জানিয়েছেন, উচ্চ খরচের কারণে দুই বছর আগে রোবট্যাক্সির বাণিজ্যিক পরিষেবা স্থগিত করা হলেও এখন নতুন প্রযুক্তি ও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
লরা মেজর বলেন, “আমরা এমন এক সময়ে পণ্য চালু করতে যাচ্ছিলাম যখন খরচ ছিল অত্যন্ত বেশি। ফলে স্কেলিং করতে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছিল। তবে এআই প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন—যেমন চ্যাটজিপিটি ও বৃহৎ মডেলগুলির উন্নয়ন আমাদের জন্য নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, মোশন এখন প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক কম খরচে রোবট্যাক্সি পরিষেবা চালু করতে সক্ষম। এমনকি তারা তাদের কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে এনে মাত্র ৭০০ জনে নিয়ে এসেছেন, যা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়েমোর তুলনায় অনেক কম।
হুন্ডাইয়ের সঙ্গে মোশনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, যা তাদের খরচ কমাতে সহায়তা করছে। মেজর জানান, তারা হুন্ডাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে গাড়ি ডিজাইন করেন যাতে সেন্সর ও কম্পিউটিং ক্ষমতা আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। এতে করে অতিরিক্ত খরচ বাঁচছে এবং গাড়িগুলি সরাসরি স্বয়ংক্রিয় মোডে চালু করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা যখন গাড়িটি পাই, সেটি তখনই অটোনোমাস মোডে চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকে।”
বর্তমানে মোশন তাদের রোবট্যাক্সি পরিষেবা লাস ভেগাসের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে একজন নিরাপত্তা চালক থাকলেও ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুরোপুরি চালক ছাড়া পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেজর জানান, প্রাথমিকভাবে চালকের উপস্থিতি মূলত যাত্রীদের সুবিধার্থেই রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাইছি মানুষ যেন রোবট্যাক্সি ব্যবহারের সময় কোনো অসুবিধায় না পড়ে। তাই প্রাথমিকভাবে একজন মানব সুপারভাইজারকে রাখা হয়েছে যাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।”
মোশনের প্রধান ব্যবসায়িক মডেল হলো অন্যান্য রাইড-হেলিং অ্যাপ যেমন উবার ও লিফটের সঙ্গে অংশীদারিত্ব। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো নিজস্ব অ্যাপ তৈরি না করে বিদ্যমান অ্যাপগুলোর মাধ্যমে পরিষেবা চালু করা। মেজর বলেন, “উবার ও লিফটের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অধিকাংশ রাইড-হেলিং গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। তাই নতুন অ্যাপ তৈরি করা আমাদের জন্য সময় ও সম্পদ নষ্ট করার মতো ব্যাপার হতো।” তিনি আরও জানান, উবার নিজেও একাধিক রোবট্যাক্সি প্রযুক্তি প্রদানকারীর সঙ্গে কাজ করতে চায় যাতে কোনো একক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সক্ষম না হয়ে যায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বয়ংচালিত যানবাহনের ভবিষ্যত নির্ভর করছে খরচ কমানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর। মোশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি যদি তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারে, তাহলে অচিরেই রাস্তায় দেখা যাবে স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি। তবে এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি চালকহীন পরিষেবা চালু করতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিয়মকানুন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং জনগণের আস্থা অর্জন। তবে মোশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ রোবট্যাক্সির সঙ্গে পরিচিত হবে।
মন্তব্য করুন