গত শনিবার রাতেই আমেরিকার টেক্সাসের হিউস্টন শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত পন্ডোরোসা ফরেস্ট এলাকায় এক মহিলার বাড়ির ছাদ ভেদ করে ঢুকে পড়ে এক মহাজাগতিক পাথরখণ্ড। স্থানীয় ফায়ার চিফ ফ্রেড উইন্ডিশ জানান, তাঁর মতে ওই বস্তুটি একটি উল্কাপিণ্ড হতে পারে। যার আকার তাঁর হাতের চেয়ে সামান্য বড়। তিনি আরও বলেন, উল্কাটি মহিলার ঘরের রান্নাঘরে এসে আছড়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও নাসার বিজ্ঞানীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
নাসা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ৪০ মিনিটে স্টেজকোচ এলাকা থেকে প্রায় ৪৯ মাইল উচ্চতায় প্রথম উল্কাটির আবির্ভাব ঘটে। তারপর তা ঘণ্টায় ৩৫ হাজার মাইল বেগে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ধাবিত হয়। অবশেষে সাইপ্রেস স্টেশন থেকে মাত্র ২৯ মাইল দূরে বামেল এলাকার উপর প্রায় ৩ ফুট ব্যাসের ও এক টন ওজনের উল্কাটির বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে সৃষ্ট চাপতরঙ্গ ভূমিতে কম্পনের সৃষ্টি করে, যা অনেক বাসিন্দা বজ্রপাতের শব্দ বলে মনে করেন। যদিও ঐ সময় আকাশ ছিল সম্পূর্ণ পরিষ্কার।
এই ঘটনার আগে গত সপ্তাহেও আরেকটি বিশাল উল্কাপিণ্ড প্রায় ৭ টন ওজনের এবং ঘণ্টায় ৪৫ হাজার মাইল বেগে একাধিক রাজ্যের উপর দিয়ে উড়ে যায়। আর গত বছরের জুন মাসে দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকা জুড়ে এক উজ্জ্বল উল্কা দেখা যায়, যা জর্জিয়া রাজ্যের উপর বিস্ফোরিত হয়ে একই ধরনের শব্দের সৃষ্টি করেছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের ঘটনা বিরল হলেও মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে স্বাভাবিক। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি একেবারেই অস্বাভাবিক ও ভীতিকর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এলিজাবেথ মার্শেল জানান, তিনি যখন ঘরে বসে ছিলেন তখন হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে তাঁর ঘরের জানালা কেঁপে উঠেছিল। পরে খবর পেয়ে জানতে পারেন যে তাঁর প্রতিবেশীর বাড়িতে উল্কাপিণ্ড পড়েছে। তিনি বলেন, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য! এখনও আমি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারিনি। অন্যদিকে, ঘটনার সাক্ষী হওয়া স্থানীয় এক যুবক বলেন, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বজ্রপাত হয়েছে। কারণ তখন আকাশে কোনো মেঘ ছিল না। পরে শুনলাম যে এটা উল্কাপিণ্ডের শব্দ ছিল!
উল্কাপিণ্ড নিয়ে গবেষণারত কলেজ স্টেশনের এক বিজ্ঞানী ডঃ রাজীব কর্মকার জানান, উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে কিছু অংশ অবশিষ্ট থেকে যায়। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা থেকে মহাজাগতিক বস্তুর গঠন ও পৃথিবীর উপর তাদের প্রভাব সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে উল্কাপিণ্ড সংগ্রহে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন যাতে তা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সহায়ক হয়।
মন্তব্য করুন