হাওয়াই দ্বীপে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার (এনডাব্লিউএস) হোনোলুলু কার্যালয় জানিয়েছে, এবারের বৃষ্টির কারণে ব্যাপক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে মাটি ইতোমধ্যেই স্যাচুরেটেড হয়ে গেছে, ফলে অল্প বৃষ্টিতেও বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হাওয়াই দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে জরুরি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ওটাকে ক্যাম্প, হালেইওয়াহ বিচ রোড এলাকা, কুকেয়া সার্কেল/ওয়াইলুয়া বিচ রোড, পালা রোড, ওয়াইলুয়া শহরের কিছু অংশ এবং উইড সার্কেল/ওয়াইলুয়া বিচ রোড। এছাড়া কাউকুনাহুয়া স্ট্রিমের পশ্চিমাঞ্চলও খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রায় ৫৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ওআহু দ্বীপে ২৩০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, অন্তত কয়েকশত ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াহিয়া ওয়া ড্যামের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। রাজ্যজুড়ে রবিবার পর্যন্ত ফ্ল্যাশ ফ্লাড ওয়াচ (হঠাৎ বন্যার সতর্কতা) জারি করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন বলেছেন, “আমাদের নাগরিক ও পরিবারগুলির নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যেই ওআহু দ্বীপের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, একইসঙ্গে বাঁধ ভাঙার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি।”
স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ও হাওয়াই ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশাবলী অনুসরণ করেন। এছাড়া সব ধরনের সতর্কতা মানতে এবং বন্যার পানিতে না নামতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকলকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি অফিস আজ বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে মানুষ নিরাপদে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে।
বন্যার কারণে হাওয়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিও বন্ধ হয়ে গেছে। কামেহামেহা হাইওয়ে থেকে ওয়াহিয়া ওয়া পর্যন্ত এলাকা বিশেষভাবে বিপদজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভয়াবহ বন্যার কারণে রাজ্যজুড়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে আরও সহায়তা প্রদানের আশা করছেন।
মন্তব্য করুন