সৌদি আরবের ভূখণ্ডে বারবার হামলার প্রতিবাদে রিয়াদ সরকার ইরানের সামরিক অ্যাটাশেসহ দূতাবাসের পাঁচ কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের আরও তিন কর্মীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেল।
গত কয়েক মাস ধরে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনার ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে আসছে। তেহরানের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধেই এসব হামলা পরিচালনা করছে। তবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের ওপর আর বিশ্বাস রাখা যায় না। তিনি বলেন, ‘আমাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে।’
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হলেও বর্তমান উত্তেজনার কারণে তা আবার তলানিতে এসে ঠেকেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের অব্যাহত হামলা উভয় দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এর আগে বুধবার কাতারও তাদের দেশ থেকে ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব এখন একমাত্র ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করছে। গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে একটি ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়।
সৌদি সরকারের এই পদক্ষেপকে ইরান কূটনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে পুরো অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন