আমেরিকার রাজনীতির অঙ্গনে আবারও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে সেনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা এবার সভায় বসতে চলেছেন ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামে একটি বিতর্কিত নির্বাচনী আইনের উপর। এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য হল ভোটারদের নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার সময় ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করা। ট্রাম্প গত সপ্তাহে কংগ্রেসের সদস্যদের প্রতি এই আইনটি পাস করার জন্য চাপ দিয়েছেন এবং এমনকি অন্যান্য অধিকাংশ আইন স্বাক্ষর না করার হুমকিও দিয়েছেন।
সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন স্পষ্ট করেছেন যে এই মুহূর্তে রিপাবলিকানদের কাছে আইনটি পাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নেই। তাই তিনি ঘোষণা করেছেন যে এই সপ্তাহেই আইনটির উপর দীর্ঘ ও ব্যাপক বিতর্ক শুরু হবে। তিনি বলেছেন, ‘আমি এই আইনের ফলাফলের গ্যারান্টি দিতে পারছি না, কিন্তু গ্যারান্টি দিচ্ছি যে আমরা ডেমোক্র্যাটদের এই বিষয়ে সাফাই দিতে বাধ্য করব।’ রিপাবলিকানরা এই আইনটিকে খুবই সাধারণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই আইনের ফলে লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যারা নিজেদের নাম পরিবর্তন করেছেন বা পাসপোর্ট বা জন্ম সনদের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে ভোগেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই আইনটিকে ‘ভোট দেওয়াকে কঠিন এবং নির্বাচন চুরিকে সহজতর করার’ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প দিন দিন শিখছেন যে তিনি একমাত্র নির্বাচন চুরি করেই জয়ী হতে পারেন। এই আইনের বিরোধিতা করতে ডেমোক্র্যাটরা সবাই একজোট হবে বলেও জানিয়েছেন শুমার।
তবে আইনটির মূল প্রস্তাবনা অনুসারে, এটি রাজ্যগুলিকে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য করবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে ভোটার তালিকায় শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকদের নামই রয়েছে। আইনটি আরও বলছে যে ভোট দেওয়ার সময় যদি পরিচয়পত্রে নাগরিকত্ব উল্লেখ না থাকে, তবে ভোটারকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। যদিও এই আইনের পক্ষে জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্বের প্রমাণের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই আইনের ফলে ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে অনেকেরই।
এই আইনের উপর দীর্ঘ বিতর্ক শুরু হতে যাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সম্ভবত অস্বস্তিকর ভোটের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের কাছে এটি একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার। ট্রাম্পের চাপে রিপাবলিকানরা এই আইনটিকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে বলে জানা গেছে। যদিও আইনটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবুও এটি মার্কিন রাজনীতির ভবিষ্যতের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন