ওয়াশিংটন, ২০ মার্চ ২০২৬: মার্কিন সিনেটের একদল সিনেটর বৃহস্পতিবার দেশটির সীমান্ত পরিচালক টম হোম্যানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এর ফলে অভিবাসন সংক্রান্ত আইসিই রিফর্মেশন ও অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস)-এর স্থগিত অবস্থা থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় এক নতুন মোড় এসেছে। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অর্থ বরাদ্দ স্থগিত থাকলেও এখন পর্যন্ত আলোচনা স্থবির ছিল। ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা এবং হোয়াইট হাউস সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তাব বিনিময় করলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর মতানৈক্য রয়ে গেছে।
রিপাবলিকান সিনেটর কেটি ব্রিট (আলাবামা) বলেন, ‘প্রথম ধাপ হলো আলোচনা শুরু করা। গত ছয় সপ্তাহে এটি ছিল প্রথম আলোচনা। আমি আশা করি আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি আলোচনা হবে।’ তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকটি ছিল আলোচনা নয়, বরং একটি প্রাথমিক কথোপকথন। তার মতে, এখান থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টো (নেভাডা) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি খুশি যে হোয়াইট হাউস আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, তবে তাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দল এমন কোনো চুক্তি সমর্থন করবে না, যাতে অভিযানের পরোয়ানা (warrants), মাস্ক ব্যবহারের নিয়মাবলী, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকে।
এদিকে, ডিএইচএস-এর অধীনে থাকা বিভিন্ন সংস্থা যেমন টিএসএ-এর কর্মীদের বেতন না দেওয়ায় বিপুল সংখ্যক কর্মী পদত্যাগ করেছেন। বিমানবন্দরে কর্মীদের অভাবের কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা পৃথক সংস্থাগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দের চেষ্টা করলেও রিপাবলিকানরা তা বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সাময়িকভাবে পুরো ডিএইচএস-এর জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দিলেও ডেমোক্র্যাটরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বর্তমানে ডিএইচএস-এর নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে। জানুয়ারিতে মিনেসোটায় দুই মার্কিন নাগরিকের হত্যার পর ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ফলে ক্রিস্টি নোম-এর স্থানে নতুন ডিএইচএস সচিব হিসেবে মার্কওয়ে মুলিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যিনি অচিরেই অনুমোদিত হতে পারেন। এমতাবস্থায় সিনেটের শীর্ষস্থানীয় সদস্যরা যেমন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স (মেইন) এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাট্টি মারে (ওয়াশিংটন) টম হোম্যানের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন। এছাড়া অন্যান্য সদস্য যেমন রিপাবলিকান সিনেটর জন হোভেন (নর্থ ডাকোটা), ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শিহান (নিউ হ্যাম্পশায়ার), স্বতন্ত্র সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং (মেইন) এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর ম্যাগি হাসান (নিউ হ্যাম্পশায়ার) উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কয়েকজন সিনেটর জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালেও জন হোভেন সংবাদদাতাদের বলেন, ‘আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি।’ অন্যদিকে প্যাট্টি মারে বলেন, দুই পক্ষ এখনও অনেক দূরে রয়েছেন। মার্কিন সিনেট নেতা জন থুন (দক্ষিণ ডাকোটা) আগেই জানিয়েছিলেন যে আগামী সপ্তাহের শেষে দুই সপ্তাহের জন্য সিনেটের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না সরকার স্থগিত থাকা অবস্থায় আমরা ছুটি নিতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, বৈঠকটি ইতিবাচক অগ্রগতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে টম হোম্যান বৈঠক শেষে বলেন, ‘আমাদের সরকারকে দ্রুত চালু করতে হবে।’
মন্তব্য করুন