যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আবেদন নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করছে, যার ফলে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে চাওয়া উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে দেওয়ার একটি নীতি পুনর্বহাল করা যেতে পারে। গত ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর এই নীতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ এখন আবার সেই নীতিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে পুনর্বহাল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে। যদিও বিষয়টি এখনও আদালতের বিবেচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও আদালতের সদস্যদের মধ্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের নবনিযুক্ত তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতিসহ বেশ কয়েকজন বিচারপতি এ বিষয়ে বেশ উৎসাহী মনোভাব দেখাচ্ছেন। তাদের মতে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ একটি জাতীয় গুরুত্বের বিষয়, এবং উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে। তবে উদারপন্থী বিচারপতিরা এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকায় এই নীতি পুনর্বহাল করা উচিত নয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার করা উচিত বলে তারা মতামত ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ‘মিগ্রেশন প্রোটেকশন প্রোটোকলস্’ বা এমপিপি নামে পরিচিত এই নীতি চালু ছিল, যার মাধ্যমে উদ্বাস্তুরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই মেক্সিকোতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই নীতির ফলে হাজার হাজার উদ্বাস্তু দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকোতে অবস্থান করতে বাধ্য হন এবং তাদের অনেকেই অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকেন। পরবর্তীকালে বাইডেন প্রশাসন এই নীতি বাতিল করে উদ্বাস্তুদের জন্য আরও মানবিক পন্থা অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট যদি সম্মতি দেয়, তাহলে তা আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে রিপাবলিকান দলের সদস্যরা এই নীতির পুনর্বহালকে সমর্থন করছেন, যাদের যুক্তি হলো এটি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠোর করবে এবং অবৈধ অভিবাসন হ্রাস করবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করে এই নীতির বিরোধিতা করছেন।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অভিবাসীদের উপরই নয়, বরং সমগ্র দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির উপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে অভিবাসন নিয়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব লাভ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদানের আগ পর্যন্ত সমগ্র দেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
মন্তব্য করুন