গত কয়েক দিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে চলেছে একটি অদ্ভুত দৃশ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত জনপ্রিয় হটপট রেস্তোরাঁ হাইডিলাও-এর কর্মীরা একটি রোবটকে দাপাদাপি করতে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন। কারণ, সেই রোবটটির ছিল নিজস্ব নৃত্য পরিবেশনা করার ক্ষমতা। আর সেই নৃত্য শেষ করার পরেও সেটি থামতে রাজি নয় কিংবা বলা ভালো, থামতে পারছিল না। কর্মীরা মিলে চেষ্টা করেও তাকে থামিয়ে রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে ক্যাম্পাসের মধ্যে দাপিয়ে বেড়ানো সেই রোবটটির ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে।
এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটটি চীনের জনপ্রিয় গান ‘লাভ ইউ’ (Love You) নামে পরিচিত সাইন্ডি ওয়াং-এর একটি বিখ্যাত গানের তালে তালে চমৎকারভাবে নাচতে শুরু করে। কিন্তু যখন গান শেষ হয়, তখনও রোবটটির নাচ থামেনি। কর্মীরা তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে নাচতে থাকে। এমনকি রোবটটির পোশাকেও লেখা ছিল ‘আই এম গুড’ অর্থাৎ ‘আমি ভালো আছি’। পুরো ঘটনাটির মধ্যে রোবটটির মুখের হাসি যেন আরও বেশি করে প্রকাশ পাচ্ছিল!
হাইডিলাও-এর এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই বিশেষ রোবটটির নাচের বিষয়টি আসলে একটি পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রামিং-এর অংশ। সাধারণত এই ধরনের রোবটগুলি রেস্তোরাঁয় খাবার সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হলেও এটিকে বিশেষভাবে গ্রাহকদের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মূল কাজ হলো বিশেষ অনুষ্ঠান যেমন জন্মদিন কিংবা অন্যান্য উৎসব উপলক্ষ্যে সঙ্গীতের তালে তালে নাচ পরিবেশন করা। এই রোবটটির নাচটি আসলে ছিল ‘সেলিব্রেশন মোড’-এর অংশ, যার অর্থ হলো এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত উদ্যাপন করছিল। তবে রোবটের এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাইডিলাও-এর মাত্র একটি শাখায় এই বিশেষ ধরনের রোবটটি রয়েছে। মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন যে, সিলিকন ভ্যালির মতো প্রযুক্তি-উন্নত এলাকাতেই এই ধরনের উদ্ভাবন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। কারণ, এখানকার মানুষেরা নতুন প্রযুক্তির প্রতি বেশি আগ্রহী। যদিও মানুষের মতো রোবটগুলি সবসময় নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে না। সম্প্রতি চীনে একাধিকবার রোবটদের অস্বাভাবিক আচরণের ঘটনা সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়, এক্সপেং-এর আয়রন নামক রোবটটি সর্বসাধারণের সামনে প্রথমবারের মতো হাঁটতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হে শিয়াওপেং বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে, রোবটটি হাঁটতে শিখছে বলেই এমনটা হয়েছে। তাছাড়া ইউনিট্রির একটি হিউম্যানয়েড রোবট পরীক্ষার সময় একজন প্রকৌশলীকে লাথি মেরেছিল। এমনকি গত বছরের এপ্রিল মাসে বেইজিং-এর একটি অর্ধ-ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি রোবট দৌড়ানোর সময় বারবার পড়ে গিয়েছিল।
এই ঘটনাগুলি থেকে স্পষ্ট যে, রোবটগুলি যতই উন্নত প্রযুক্তির হয়ে উঠুক না কেন, তাদের মধ্যে এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। তবে হাইডিলাও-এর এই বিশেষ রোবটটির অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের মানুষেরা বেশ মজা করছেন। অনেকে আবার একে কৌতুক হিসেবেও দেখছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির রোবটগুলি কি মানুষের মতোই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে? কিংবা তাদের আচরণ কি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে যে, আমরা তাদের কাছ থেকে ভিন্ন কোনো প্রতিক্রিয়া আশা করতে পারব না? সময়ই বলে দেবে।
মন্তব্য করুন