যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের যন্ত্রণা এখন অতীত হতে চলেছে। কারণ, সিলিকন ভ্যালির সান জোসের মিনেটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবার যাত্রীদের সেবা দিতে নিয়োগ দিয়েছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত রোবটকে। ‘হোসে’ নামে পরিচিত এই রোবটটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানো, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং রিয়েল টাইম আপডেট প্রদান করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমানবন্দরের ব্যস্ত টার্মিনালগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন স্থগিতের কারণে টিএসএ কর্মীদের কাজে যোগ না দেওয়া। এই সংকট মোকাবিলায় সান জোসের মিনেটা বিমানবন্দর নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। ইন্টবট নামে একটি সিলিকন ভ্যালি স্টার্টআপ দ্বারা নির্মিত হোসে নামের এই রোবটটি বিমানবন্দরের টার্মিনাল বি-তে চার মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। অফিসিয়ালরা জানিয়েছেন, এই রোবটটি নিজ থেকেই একটি গেট পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগটি যাত্রীদের যাত্রাপথ আরও সুগম করতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এসজেসির অ্যাভিয়েশন ডিরেক্টর মুকি প্যাটেল বলেন, “ইন্টবটের সঙ্গে যাত্রা শুরু করে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে পারে তা খুঁজে দেখছি। এটি এসজেসিকে সিলিকন ভ্যালির প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে।”
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে স্প্রিং ব্রেক মৌসুমে টিএসএ কর্মীদের অনুপস্থিতির কারণে অনেক বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হোসের মতো রোবট ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোসে রোবটটি ভিশন, অডিও এবং ল্যাঙ্গুয়েজকে একত্রিত করে বহুমুডাল এআই ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রীদের আরও ভালোভাবে সহায়তা করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির এই প্রয়োগটি যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ ধরনের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। যাত্রীরা এখন থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পরিবর্তে দ্রুত ও সহজে বিমানবন্দরের সেবা পেতে শুরু করবেন।
এই ধরনের উদ্যোগগুলি মূলত বিমানবন্দরের যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্যে গৃহীত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিমানযাত্রা আরও আরামদায়ক এবং দ্রুত হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ।
মন্তব্য করুন