যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক টুলসি গাববার্ড সম্প্রতি সিনেটের বৈশ্বিক হুমকি বিষয়ক শুনানিতে বক্তব্য রাখেন। তার এই বক্তব্যে তিনি ইরানের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পরও ইরানের শাসন ব্যবস্থা টিকে থাকলেও মূলত তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাববার্ড তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলেও দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও জানান যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে দেশটির নেতৃত্বের প্রতি জনগণের সমর্থন অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তবে তিনি এও বলেন যে, ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই শুনানিতে গাববার্ডের উপস্থিতি কেবলমাত্র ইরানের বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি বৈশ্বিক অন্যান্য হুমকির বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক হুমকির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। তার মতে, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এসব দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
গাববার্ডের মন্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে। তিনি বলেন, এই অভিযানগুলো ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করেছে, তবে দেশটির নেতৃত্ব এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধীরা সরকারের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছে, যা দেশটির স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এই শুনানিতে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা গাববার্ডের মতামতকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকে আরও সুসংহত করতে হবে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক হুমকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সক্রিয় ও দূরদর্শী হতে হবে যাতে করে ভবিষ্যতে কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়।
মন্তব্য করুন