বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের দায়িত্বে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সংস্থাটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের কার্যকলাপ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্বে সিডিসির প্রাথমিক ভূমিকা— জনসাধারণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা— হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত মতাদর্শের কারণে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
সিডিসির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেনেডি জুনিয়রের বিভিন্ন বক্তব্য ও পদক্ষেপ বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাঁর কিছু বিবৃতি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সংস্থাটির কর্মীরা নিজেদের কাজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। এমনকি অনেকে গোপনে আলোচনা করছেন যে, তাঁরা ভবিষ্যতে সিডিসিতে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়েও।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। সিডিসির মতো সংস্থাগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দেওয়া জরুরি। অন্যথায় বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলার মতো সংকটকালে সংস্থাটির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সিডিসির ভবিষ্যত কর্মপন্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্থাটি এখন নিজেদের সুনাম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে রাজনৈতিক চাপের কারণে সেই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। অন্যদিকে, মার্কিন জনগণও এখন উদ্বিগ্ন যে, তাদের স্বাস্থ্যসেবা কতটা নির্ভরযোগ্য থাকবে।
সাবেক সিডিসি কর্মকর্তারা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাজনীতি ও বিজ্ঞানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাজনৈতিক মতাদর্শ বিজ্ঞানকে ছাপিয়ে যায়, তাহলে তা কেবল সিডিসির জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, জনস্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্তব্য করুন