হলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী ভায়োলা ডেভিস সম্প্রতি তাঁর জীবনের শততম বছরকে স্পর্শ করেছেন। তাঁর জীবনে এই নতুন অধ্যায় তাঁকে অনেক কিছুই নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ষাট বছরের পর তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো তিনি নিজেকে নিয়েই ভাবা শুরু করেছেন। আগে যেসব প্রত্যাশা তাঁকে তাড়িত করত, সেগুলো এখন তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ষাট বছরের পর জীবনটা নিজেরই হয়ে যায়। এটাই এর শ্রেষ্ঠ অংশ।”
ভায়োলা ডেভিস সম্প্রতি আমি পোহলের ‘গুড হ্যাং’ পডকাস্টে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তাঁর জীবনের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, আগে তাঁকে অনেক সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করতে হতো—হোক তা অর্থ উপার্জন করা, স্মার্ট হওয়া, সুন্দরী হওয়া, বা শরীরের গঠন নিয়ে। কিন্তু এখন তিনি সেইসব শেকল ভেঙে বেরিয়ে আসছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি এমন একজন নারীতে পরিণত হতে যাচ্ছি, যিনি নিজেকে নিয়েই স্বচ্ছন্দ। আগের সেইসব কথা—যেমন টাকা উপার্জন করতে হবে, সুন্দরী হতে হবে—এসবের কোনো অর্থই নেই।”
ভায়োলা ডেভিস তাঁর জীবনের এই পরিবর্তনকে আলোকিত করেছেন একটি বিশেষ উক্তির মাধ্যমে। তিনি বলেন, “নরকের সংজ্ঞা হলো: তুমি যখন মৃত্যুশয্যায় থাকবে, তখন তুমি যে ব্যক্তি হয়েছ তা মিলিয়ে দেখবে যে তুমি যে ব্যক্তি হতে পারতে তা আর থাকবে না।” তাঁর মতে, ষাট বছরের পর এই কথাটিই তাঁর জীবনকে নতুনভাবে আলোকিত করেছে। তিনি এখন তাঁর প্রিয় মানুষদের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন, তাঁদের ভালোবাসা উপভোগ করছেন এবং জীবনের শেষ দিনগুলিতে কীভাবে তাঁদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তা নিয়েও ভাবছেন। তাঁর কথায়, “আমার জীবনের এই মুহূর্তটা এখন শুধু ভালোবাসা আর স্মৃতির। আর এই স্বচ্ছতা আমাকে অনেক সাহসও দিয়েছে।”
হলিউডে ভায়োলা ডেভিস একাই নন, যিনি ষাট বছরের পর তাঁর জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি লাভ করেছেন। জেন ফন্ডা তাঁর ষাট বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেছেন, তিনি মৃত্যুশয্যায় দাঁড়িয়ে নিজেকে যেন কোনো দুঃখজনক কথা বলতে না হয় সেই ভাবনা তাঁকে তাড়িত করেছে। তাঁর কথায়, “যদি তুমি মৃত্যুশয্যায় দাঁড়িয়ে কোনো দুঃখজনক কথা বলতে না চাও, তাহলে তোমাকে জীবনের শেষ কটা বছর এমনভাবে কাটাতে হবে, যাতে কোনো দুঃখজনক কথা বলতে না হয়।”
অপরদিকে জোডি ফস্টার তাঁর ষাট বছরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তাঁর পঞ্চাশ বছরের জীবনে তিনি নিজেকে নিয়ে অনেক অপ্রাপ্তির কথা ভেবেছেন। কিন্তু ষাট বছরের পর তাঁর জীবনে যেন এক আলোকবর্তিকা জ্বলে উঠেছে। তাঁর কথায়, “ষাট বছরের পর সবকিছুই যেন পাল্টে গেল। আমি আর কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করি না। আগে যেসব বিষয় আমাকে তাড়িত করত, সেগুলো এখন আর কোনো অর্থ রাখে না।”
ভায়োলা ডেভিসের মতো আরও অনেক নারীরা হলিউডে তাঁদের জীবনের এই নতুন অধ্যায়টিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁরা সবাই নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে শিখছেন। তাঁদের জীবন দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও নিজেদের জীবনের প্রতি আরও সচেতন হতে পারি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে নিয়েই ভাবা শুরু করা এবং নিজেদের প্রিয়জনদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হওয়া উচিত। কারণ জীবনের শেষ দিনগুলিতে কেবল নিজের কাছেই নিজেকে জবাবদিহি করতে হয়।
মন্তব্য করুন