এনবিএর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও লেকার্সের লেজেন্ড লেব্রন জেমস এখনও যেন তরুণদের মতোই খেলছেন। বুধবার রাতের খেলায় হিউস্টন রকেটসকে ১২৪-১১৬ ব্যবধানে হারিয়ে লেকার্স টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে। এই জয় তাদের গত ১১ খেলার মধ্যে ১০তম জয় ছিল। খেলার দ্বিতীয় পর্বে মারকাস স্মার্টের এলি-ওপ থেকে বল ধরে পেছন থেকে ব্যাকবোর্ডের উপর দিয়ে ঝাঁপিয়ে ডাঙ্ক করে তিনি যেন মহাকর্ষকে হার মানালেন। ৪১ বছর বয়সেও জেমসের এই দক্ষতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
লেকার্সের এই জয় কেবল ম্যাচ জয় নয়, বরং দলটির সাম্প্রতিক সাফল্যের একটি বড় উদাহরণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দলটি তাদের ছন্দ খুঁজে পেয়েছে। জেমস নিজেও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিজেকে অবাক করছেন। গত খেলায় তিনি গড়ে ২১.২ পয়েন্ট, ৬.৯ অ্যাসিস্ট, ৫.৭ রিবাউন্ড এবং ৩৩.৩ মিনিট খেলেছেন। আর এই সাফল্যের মূলে রয়েছেন জেমসের নেতৃত্ব ও তাঁর অদম্য মানসিকতা। খেলার পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, “এখনও আমার মধ্যে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যেগুলো আমাকেই অবাক করে দেয়।”
লেকার্সের জয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হল তাঁদের তারকা খেলোয়াড় লুকা ডোনসিচ। তিনি একাই করেছেন ৪০ পয়েন্ট, ১০ অ্যাসিস্ট এবং ৯ রিবাউন্ড। তাঁর নেতৃত্বে দলটি পশ্চিম উপমহাদেশের তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। ৪৪-২৫ ব্যবধানে জয় নিয়ে দলটি এখন প্লে অফের দিকে দৃষ্টি রেখেছে। যদিও মৌসুমের শুরুতে দলটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হয়নি, তবে শেষের দিকে এসে তারা নিজেদেরকে শক্তিশালী দল হিসেবে প্রমাণ করেছে।
জেমসের বার্ধক্যজনিত সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই সন্দেহকে ভুল প্রমাণ করেছে। তিনি নিজেই বলেছেন, “আমি নিজেও কখনো ভাবিনি যে এই বয়সে আমি এমন খেলা দেখাতে পারব।”
জেমসের এই অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে এনবিএর ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর সামনে এখনও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু তাঁর খেলার স্টাইল ও মনোবল দেখে মনে হয় তিনি এখনও যুবকদের মতোই খেলে যাবেন।
মন্তব্য করুন