যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি বন্ধের কারণে টিএসএ কর্মীরা বেতন ছাড়া কাজ করছেন। এ অবস্থায় লাস ভেগাসের প্রধান প্রধান ক্যাসিনো মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে টিএসএ কর্মীদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছেন। এই পদক্ষেপে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এমজিএম রিসোর্টস ইন্টারন্যাশনালের মতো বড় বড় ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাজ করা প্রায় ১,৪০০ টিএসএ কর্মীর জন্য খাবার ও স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী পাঠিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ফ্লিন জানান, এই উদ্যোগের ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকছে এবং পর্যটকরা দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারছেন।
লাস ভেগাসের অর্থনীতি মূলত পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। সরকারি বন্ধের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ক্যাসিনো মালিকদের এই উদ্যোগ পর্যটকদের মনোবল অটুট রাখতে সাহায্য করছে। ফ্লিন বলেন, “আমরা একটি হসপিটালিটি নির্ভর শহর। আমাদের পর্যটন শিল্পকে সচল রাখতে হলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবশ্যই স্বাভাবিক থাকতে হবে। টিএসএ কর্মীরা না থাকলে আমাদের অতিথিরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারবেন না।”
এর আগেও ২০২৫ সালের নভেম্বরে এমজিএম রিসোর্টস ইন্টারন্যাশনাল প্রায় ৭০০ খাবার ও ব্যক্তিগত সামগ্রী টিএসএ কর্মীদের কাছে পাঠিয়েছিল। এছাড়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে একটি খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ভাণ্ডার খুলেছে, যেখানে টিএসএ কর্মীরা বিনামূল্যে খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন। তবে ভাণ্ডারটি প্রায় খালি হয়ে আসছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জনগণের কাছে আরও বেশি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরগুলোতে টিএসএ কর্মীদের বেতন না দেওয়ার কারণে বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। হিউস্টন, নিউ ইয়র্ক ও নিউ অরলিন্সের মতো শহরগুলোতে কয়েক ঘণ্টার লাইনে পর্যটকরা বিমান ধরতে পারছেন না। অন্যদিকে লাস ভেগাসের বিমানবন্দরে এখনও লাইন প্রায় নেই বললেই চলে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অবস্থা ধরে রাখতে স্থানীয় জনগণের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি বন্ধের কারণে টিএসএ কর্মীরা এখনও তাদের বেতন পাননি। কংগ্রেস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়ন পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত কর্মীদের বেতন দেওয়া হবে না। তবে এমজিএম রিসোর্টস ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানগুলোর এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পকে কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে সাহায্য করছে।
মন্তব্য করুন