গত সোমবার লাগুয়ার্ডিয়া বিমানবন্দরে একটি বিমান দুর্ঘটনার কারণে পূর্ব উপকূল জুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভ্রমণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কানাডার মন্ট্রিল থেকে আগত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের ফ্লাইট ৮৬৪৬ অবতরণের সময় বিমানবন্দরের একটি অগ্নিনির্বাপক যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনায় বিমানের দুই পাইলট নিহত হন এবং অসংখ্য যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রায় ১৪ ঘণ্টার জন্য বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বহামাসের অন্তত ৭৪টি বিমানবন্দরে ৬০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
বিজনেস ইনসাইডারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে, যেখানে লাগুয়ার্ডিয়াগামী বা আগত ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপরেই রয়েছে বোস্টনের লোগান বিমানবন্দর (৩০টি বাতিল) ও টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দর (২৮টি বাতিল)। এছাড়া আরও ১৮টি ফ্লাইট লাগুয়ার্ডিয়ায় না পৌঁছে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করে বা উৎপত্তিস্থলে ফিরে যায়।
লাগুয়ার্ডিয়া বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ। এটি নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হলেও জেএফকে ও নিউয়ার্কের তুলনায় আকারে ছোট। প্রধানত অভ্যন্তরীণ রুট এবং কিছু স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা করে এই বিমানবন্দর। দুর্ঘটনার কারণে বিমান চলাচলে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, তা থেকেও যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। কারণ ইতোমধ্যেই টিএসএ কর্মীদের স্বল্পতার কারণে বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছিল।
এয়ার কানাডা ফ্লাইটের পাইলটরা বিমান অবতরণের পরপরই বিমানবন্দরের রানওয়েতে প্রবেশ করা একটি অগ্নিনির্বাপক যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত করছে মার্কিন জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) এবং কানাডার পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড। ঘটনার পর বিমানবন্দর সন্ধ্যা ২টায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিমান দুর্ঘটনার কারণে পূর্ব উপকূলের ভ্রমণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। অসংখ্য যাত্রী তাদের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। অনেকেই বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া যারা বিমান যাত্রা শুরু করেছিলেন, তাদের অনেকের ফ্লাইটই উৎপত্তিস্থলে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমান পরিবহন ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা আরও কমছে।
মন্তব্য করুন