যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তথা ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর তুলসী গাব্বার্ডের পদত্যাগ আসন্ন বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন ডানপন্থী কর্মী লরা লুমার। নিজেকে একজন স্বাধীন অনুসন্ধানী সাংবাদিক দাবি করা লুমার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লেখেন, গত দুই দিনের কংগ্রেসনাল সাক্ষ্যগ্রহণের পর গাব্বার্ডের কর্মীরা ধারণা করছেন যে তিনি খুব শীঘ্রই পদত্যাগ করতে চলেছেন। একজন ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লেখেন, তার পদত্যাগ আসন্ন। তবে লুমার তার সূত্রের নাম প্রকাশ করেননি।
তুলসী গাব্বার্ডের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে এর মধ্যেই। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনস্থ জাতীয় প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্ট গত মঙ্গলবার পদত্য করেছেন ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয় এবং ইসরায়েল ও তার প্রভাবশালী মার্কিন লবির চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধ শুরু করেছে। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে গাব্বার্ড যখন ইরান সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, তখনই এই ঘটনা ঘটে।
বাজি ধরার প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে গাব্বার্ডের পদত্যাগ করার সম্ভাবনা মাত্র ১৩ শতাংশ। অন্য একটি বাজি ধরার প্ল্যাটফর্ম কালশির হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে তার পদত্যাগ করার সম্ভাবনা ১৬ শতাংশ। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পূর্বাভাসগুলো খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না কারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্ভাবনা হ্রাস বা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরান সম্পর্কিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে তুলসী গাব্বার্ডের অবস্থান ও পদত্যাগের পূর্বাভাস কি কোনো সম্পর্ক রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন।
তুলসী গাব্বার্ড যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মহিলা যিনি হাওয়াই থেকে নির্বাচিত হয়ে কংগ্রেসে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও অংশ নিয়েছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও তার সামরিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা প্রশংসিত। তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
এখন পর্যন্ত এই বিষয়টি একটি উন্নয়নমানের খবর হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনের এই অস্থিরতার মধ্যে তুলসী গাব্বার্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তার পদত্যাগের সম্ভাবনা কি সত্যিই আছে নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ? সময়ই এর উত্তর দেবে।
মন্তব্য করুন