ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে রাশিয়া মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর ফলে রাশিয়ার তেল ব্যবসায়িক ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, চলতি বছরে রাশিয়ার তেল ব্যবসায়িক ঘাটতি ইতিমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধে সেই ঘাটতি প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ হয়েছে।
জেলেনস্কি তাঁর এক্স পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দু’সপ্তাহে রাশিয়া প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি পুতিনকে আরও আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে যে তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, ইরান সংক্রান্ত পরিস্থিতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য আরও বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পর থেকে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের তেল অবকাঠামোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জ্বালানি স্থাপনাগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে তেলের দাম বৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার এই সুবিধা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে তারা রাশিয়ার উপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করবে। প্রায় চার সপ্তাহের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জেলেনস্কি তাঁর বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলেন যে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা পুতিনের জন্য অত্যন্ত ‘সহায়ক’ হবে। কারণ তেল ও গ্যাস রাশিয়ার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির সরকারের রাজস্বের একটি বড় অংশ আসে এই খাত থেকে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া তেল ও গ্যাস থেকে প্রায় ১০.২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার হিসাব করলে এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ কম। একই সময়ে রাশিয়ার মোট রাজস্ব ছিল প্রায় ৫৮.৭ বিলিয়ন ডলার।
মন্তব্য করুন