অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক নিজেকে রাজনীতি-নিরপেক্ষ বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি তিনি জানান, তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন যে তিনি নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, রাজনীতির নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার মুখে এই মন্তব্য এলো।
‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে টিম কুক বলেন, “আমি নিজেকে রাজনীতি-নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচনা করি। আমি কোনো পক্ষেই রাজনীতি করি না।” তার এই মন্তব্যের আগে কিছু অ্যাপল গ্রাহক ও কর্মীদের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা উঠেছিল। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, তিনি গত জানুয়ারিতে ‘মেলানিয়া’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রের স্ক্রিনিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন এবং ট্রাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি তিনি তার প্রশাসনকে ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত গ্লাসের একটি ফলকও উপহার দিয়েছিলেন।
টিম কুকের বিরুদ্ধে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল তার উপস্থিতি ও দান। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুসারে, তিনি ট্রাম্পের উদ্বোধনী কমিটিতে ব্যক্তিগতভাবে ১ মিলিয়ন ডলার দান করেছিলেন। যদিও এর আগে তিনি হিলারি ক্লিনটন ও পল রায়ানের মতো রাজনীতিবিদদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। এই ঘটনা অনেককে বিস্মিত করেছে, কারণ অ্যাপলের মতো একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
টিম কুক তার যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “আমি রাজনীতির পরিবর্তে নীতির উপর বেশি জোর দিই। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় আমি নীতির বিষয়েই আলোচনা করি।” তিনি আরও জানান যে ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আজকের আইফোনটির সামনের ও পেছনের গ্লাস কেন্টাকি রাজ্য থেকে আসবে।”
অ্যাপলের এই পদক্ষেপের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু শুল্কমুক্ত সুবিধাও প্রদান করেছে। যদিও সব পণ্যের জন্য নয়। ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দেন যে যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করবে তাদের উপর আরোপিত শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। তবে অ্যাপলের ক্ষেত্রে কিছু পণ্যের উপর এখনও শুল্ক বজায় রয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে অ্যাপলের প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার শুল্ক প্রদান করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিম কুক রাজনীতিকে এড়িয়ে চললেও তার প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শুল্ক সুবিধা লাভের চেষ্টা করছেন তিনি। যদিও আদালতের রায়ের পর কিছু প্রতিষ্ঠান শুল্ক ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা করেছে। অ্যাপল এখন সেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন