বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯৩ শতাংশ কর্মক্ষেত্রই কোনো না কোনোভাবে এআই-এর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কগনিজেন্টের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এআই-এর কারণে প্রায় ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মানব শ্রম এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে সরে যাচ্ছে, যা পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে ঘটছে।
কগনিজেন্টের ২০২৩ সালের পূর্বাভাস অনুসারে, ২০৩২ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের ৯০ শতাংশ এআই দ্বারা প্রভাবিত হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই পরিবর্তন আরও ছয় বছর আগেই ঘটতে শুরু করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে এআই-এর প্রভাব প্রতি বছর গড়ে মাত্র ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও এখন তা প্রায় ৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে এআই-এর প্রভাব প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি দেখা যাচ্ছে।
এআই যে কেবল কর্মক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের ভূমিকা পালন করছে তা নয়; বরং এটি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগও সৃষ্টি করছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এআই কর্মীদেরকে তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করার জন্য আরও বেশি সুযোগ প্রদান করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ঘন ঘন পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো এআই-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারে, যার ফলে কর্মীরা আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কর্মীরা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের কাজগুলোকে এআই-এর কাছে ছেড়ে দিতে চান? আবার কোন কাজগুলো তারা নিজেরাই করতে পছন্দ করেন? এই বিষয়গুলো নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। তাদের উদ্দেশ্য হলো কর্মীদের মতামত জানা এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে এআই-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তবে বর্তমান গতিতে এই পরিবর্তন ঘটতে থাকলে তা কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। বিশেষত যেসব কর্মীরা পুনরাবৃত্তিমূলক ও সাধারণ কাজের উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই পরিবর্তনটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে কর্মীদের উচিত নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং এআই-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া। একইসঙ্গে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা প্রদানের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। কেবলমাত্র তখনই এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবটি মানবসভ্যতার জন্য কল্যাণকর হতে পারে।
মন্তব্য করুন