২০০৬ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা রাজ্যের মোবাইল শহরে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় এক টিভি নিউজ চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছিল। সেখানেই ধরা পড়েছিল এক লেপরখানকে। যদিও অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করেনি, কিন্তু সেই ভিডিও ফুটেজটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা। শহরের মানুষের কাছে সেই ঘটনা পরিণত হয়েছিল এক রহস্য আর কৌতুহলের বিষয়ে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করেছিলেন। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ক্ষুদ্রাকৃতির সবুজ পোশাক পরিহিত মানুষ দ্রুতগতিতে দৌড়ে যাচ্ছে। চেহারায় লেপরখানের বৈশিষ্ট্য থাকলেও ঠিক নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় গণমাধ্যম তাৎক্ষণিকভাবে সেই ভিডিও প্রচার করে এবং তা দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরস আর অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে তা আলোচিত হতে থাকে।
কিন্তু বিজ্ঞানী ও গবেষকরা সেই ভিডিওকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন। অনেকেই মনে করেন, এটি আসলে আলোর প্রতিফলন বা কোনো বিশেষ ক্যামেরা কৌশলের ফল হতে পারে। অন্যদিকে, স্থানীয় অধিবাসীরা মনে করেন, এটি প্রকৃতই কোনো অলৌকিক ঘটনা বা স্থানীয় লোককাহিনীর অংশ। শহরের কিছু মানুষ এমনকি সেই লেপরখানকে নিয়ে বিভিন্ন গল্প-উপকথাও তৈরি করতে শুরু করে।
ঘটনার দুই দশক পরেও মোবাইল শহরের মানুষ সেই লেপরখানকে নিয়ে কথা বলে। বিভিন্ন পর্যটক আর অনুসন্ধিৎসু মানুষেরা সেই অঞ্চলে ভিডিওটির উৎস খুঁজতে আসেন। স্থানীয় পর্যটন বিভাগও একে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেছে। শহরের কিছু ব্যবসায়ী তাদের দোকান বা প্রতিষ্ঠানের নামও লেপরখানের নামে রেখেছেন। ফলে, সেই ঘটনা স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীরা অবশ্য এখনও সেই ভিডিওর বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করেন, এটি আসলে কোনো ভিডিও এডিটিং বা বিশেষ প্রভাবের ফল। তবে স্থানীয় মানুষদের কাছে এটি এক ধরনের গর্বের বিষয়। তারা মনে করেন, তাদের শহরের সঙ্গে এমন একটি রহস্যময় ঘটনা জড়িয়ে আছে। ফলে, আজও সেই লেপরখানের কাহিনী মোবাইল শহরের মানুষদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায়।
মন্তব্য করুন