সম্প্রতি টাইম আউট ম্যাগাজিনের জরিপে বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় প্রথমবারের মতো শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, শহরটির অনন্য সংস্কৃতি, অসাধারণ খাবার ও মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যের জন্যই এই স্বীকৃতি। মেলবোর্নের লেন ও খোলা রাস্তাগুলোতে ছড়িয়ে থাকা বিখ্যাত গ্রাফিতি থেকে শুরু করে অসাধারণ কফিশপ পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসই পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। শহরটির প্রতি এমনই আবেগমাখা বর্ণনা দিয়েছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা। যারা কখনো মেলবোর্ন যাননি, তাদের জন্য রইল পাঁচটি অবশ্যই দর্শনীয় স্থান ও অভিজ্ঞতা।
মেলবোর্নের উচ্চারণটি সঠিকভাবে করুন—না মেলবর্ন, বরং মেলবিন। শহরের প্রচুর রাস্তাঘাট আর গোপন বারগুলোই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। এখানকার রাস্তার আর্টগুলো দেখার জন্য বিশেষ ট্যুরের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে স্থানীয় গ্রাফিতিকাররা নিজেরাই গাইড হিসেবে কাজ করেন। এমনই এক ট্যুরে অংশ নিয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন তিনি—কারণ তার নিজের চোখের সামনে দিয়ে হাজারবার অতিক্রম করা লেনেও লুকিয়ে ছিল ব্যাংকসির মতো বিখ্যাত শিল্পীর একটি মূল্যবান কাজ! শহরের প্রতিটি কোণে এমনই গোপন শিল্প রয়েছে, যা দেখতে হলে অবশ্যই স্থানীয় গাইডের সাহায্য নেওয়া উচিত।
মেলবোর্নকে বলা হয় বিশ্বের সেরা কফিশহর। স্থানীয়রা গর্ব করে বলেন, তাদের কফির স্বাদ আর মান যেন অন্য কোনো শহরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এখানকার বিখ্যাত ম্যাজিক ড্রিংকটি অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে। এটি একটি দ্বিগুণ রিস্ট্রেট্টো কফি, যেখানে সামান্য পরিমাণ স্টিমড মিল্ক মেশানো থাকে। স্বাদে এটি ফ্ল্যাট হোয়াইট থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঘন। এমন কফির দোকানে গেলে বারিস্তারা বুঝতে পারবেন আপনি স্থানীয়দের মতোই গর্বিত!
মেলবোর্নের খাবার সংস্কৃতিও বিস্ময়কর। শহরটিতে গ্রিসের বাইরে সবচেয়ে বড় গ্রিক সম্প্রদায় বসবাস করে, আর তাদের রান্নার স্বাদই বলে দেয় কেন এখানকার খাবার এত বিখ্যাত। ওক্লিহ নামের শহরের উপকণ্ঠে রয়েছে এক বিশাল গ্রিক রেস্তোরাঁর এলাকা। সেখানে গেলে গ্রিক সালাদ, সুভলাকি (মশলাদার মাংস আর আলুর চিপস পিটা রুটির মধ্যে পুরে দেওয়া এক ধরনের স্যান্ডউইচ) আর সাগানাকি (ভাজা পনির) অবশ্যই চেখে দেখবেন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে ইতালিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য, ভিয়েতনামি, চাইনিজ সহ আরও অনেক ধরনের খাবারের স্বাদ পাওয়ার সুযোগ। কোন দেশের খাবার আগে চেখে দেখবেন, সেটাই হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত!
মেলবোর্নের গোপন বারগুলো শহরের অন্যতম আকর্ষণ। এখানের অনেক বারই কোনো সাইনবোর্ড ছাড়াই লুকিয়ে থাকে। এমনই একটি বার হলো পিজ্জা পিজ্জা পিজ্জা—একটি পিজ্জা দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকলেই মিলবে পুরোপুরি ককটেল বার। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে এমন আরও অনেক গোপন বার, যেগুলোর কথা স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। আর যদি বার খুঁজে না পান, তাহলে অন্তত একটি মিট পাই খেয়ে নিন আর অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল (এএফএল) ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা নিন।
মেলবোর্নকে বলা হয় বিশ্বের ক্রীড়া রাজধানী। এখানকার স্টেডিয়ামগুলোতে প্রতিবছর অসংখ্য ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের মতে, এখানে না দেখলে যেটা দেখা হয় না, তা হলো অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল ম্যাচ। এটি এমন এক খেলা যেখানে হেলমেট বা প্যাড ছাড়াই সরাসরি শারীরিক সংঘর্ষ হয়। প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় এক লাখ দর্শক অংশ নেন, আর তাদের উত্তেজনায় আপনি নিজেও মুগ্ধ হবেন। ম্যাচ দেখার সময় অবশ্যই একটি মিট পাই খাবেন—যেটা অনেকটা স্টেডিয়ামের হটডগের মতোই। এর স্বাদ কেমন হতে পারে তা জানতে হলে একবার অবশ্যই চেষ্টা করে দেখুন!
মেলবোর্নে বছরের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য বড় ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়—যেমন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন টেনিস টুর্নামেন্ট আর ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স। এসব ইভেন্টেও অংশ নিতে পারেন। শহরটির প্রতি স্থানীয়দের আবেগ আর গর্ব অনুভব করতে হলে অবশ্যই একবার হলেও সেখানে যাওয়া উচিত। এ যেন এক স্বপ্নের শহর, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে পর্যটকদের জন্য।
মন্তব্য করুন