কলেজ বাস্কেটবলের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন চরিত্র হয়ে উঠছেন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশিক্ষক দস্তি মে। তার দলটি এবার এনসিএএ টুর্নামেন্টে নম্বর ওয়ান সিড হিসেবে প্রবেশ করেছে। শুক্রবার শিকাগোর ইউনাইটেড সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য সুইট সিক্সটিনের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে চতুর্থ সিড অ্যালাবামার বিরুদ্ধে।
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে মিশিগানকে দুর্দান্ত এক সফরে নিয়ে গেছেন দস্তি মে। তার নেতৃত্বে দলটি এখন পর্যন্ত ৩৩-৩ রেকর্ড করেছে। ফ্লোরিডা অ্যাটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করার সময়ও তিনি দলকে দুবার এনসিএএ টুর্নামেন্টে নিয়ে গিয়েছিলেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ২০২৩ সালে ফাইনাল ফোরে ওঠা। এরপর ২০২৪ সালে তিনি মিশিগানের দায়িত্ব নেন। দুই মৌসুমে তার দলের রেকর্ড দাঁড়িয়েছে ৬০-১৩। শুধু তাই নয়, এর মধ্যেই তারা আবারও সুইট সিক্সটিনে প্রবেশ করেছে। শীর্ষ বাছাই হওয়ায় তাদের ফাইনাল ফোরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দস্তি মে নিজেই বলেছেন, তার দলের খেলোয়াড়দের জন্য এই মুহূর্তটি উপভোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়দের এমন মুহূর্ত উপভোগ করা উচিত। যদি তারা খেলার সময় আনন্দ না পায়, তাহলে তারা আমাদের দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভাবে উপযুক্ত নয়। জয়-পরাজয়ের বাইরেও খেলাটা উপভোগ করা উচিত। তারা যখন টাইট খেলছে, তখন তাদের একটু শিথিল করার চেষ্টা করি, যাতে তারা স্বাভাবিক খেলতে পারে।”
কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যেই দস্তি মের ভবিষ্যত নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রধান প্রশিক্ষক হুবার্ট ডেভিসকে বরখাস্ত করেছে। অনেকেই ধারণা করছেন, দস্তি মে তাদের পরবর্তী প্রধান প্রশিক্ষক হতে পারেন। অন্য সূত্রে জানা গেছে, নর্থ ক্যারোলিনা একটি জোরালো নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দস্তি মের মতো সফল প্রশিক্ষকদের দিকে তাদের নজর থাকাটাই স্বাভাবিক।
তবে এখনই দস্তি মে তার দলের প্রতি পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে চান। তিনি বলেন, “এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রশিক্ষক হিসেবে আমি সবসময়ই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স আশা করি। কিন্তু তাদের আনন্দের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিই।” এপ্রিলের ছয় তারিখে এনসিএএ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। তার পরের দিন অর্থাৎ সাত এপ্রিল ট্রান্সফার পোর্টাল খুলবে। এরপরই প্রশিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে নতুন গতি আসতে পারে।
মন্তব্য করুন