বিশ্বখ্যাত উদ্যোগপতি ও প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মার্ক অ্যান্ড্রিসেন সম্প্রতি নিজের ‘ইনট্রোস্পেকশন’ বা আত্মসমালোচনা করার প্রবণতা নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি যতটা সম্ভব কম আত্মসমালোচনা করেন— এমনকি তিনি নিজেকে এই অভ্যাস থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করেন। তার এই মতামত ইন্টারনেটে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যান্ড্রিসেন তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, ‘আত্মসমালোচনা মানুষকে অতীতের গ্লানিতে আটকে রাখে। এটি কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবন উভয় ক্ষেত্রেই একটি সমস্যা।’
তার মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকে তার এই মতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেছেন যে ইতিহাসের মহান ব্যক্তিরাও নিয়মিত আত্মসমালোচনা করতেন। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন মার্কাস অরেলিয়াস, জন ডি রকফেলার, ওয়ারেন বাফেটের মতো ব্যক্তিত্বদের। অন্যদিকে, কিছু মানুষ তার মতকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা মানুষকে দুঃখী করে তোলে। অ্যান্ড্রিসেন নিজেও এই বিতর্কে সরাসরি অংশ নিয়েছেন এবং তার বিরোধীদের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন।
অ্যান্ড্রিসেনের মতে, মহান ব্যক্তিরা কখনোই আত্মসমালোচনায় সময় ব্যয় করতেন না। তিনি বলেন, ‘যারা অতীত নিয়ে বেশি ভাবেন তারা অতীতেই আটকে থাকেন। এটি কর্মক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি করে।’ তার এই মন্তব্যের পর অনেকে তাকে প্রশ্ন করেছেন যে চার্লস ডারউইনের মতো মহান বিজ্ঞানী কি আত্মসমালোচনা করতেন না? কেউ কেউ আবার স্টিভ জবসের উদাহরণ টেনে বলেছেন যে তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নিজেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
অ্যান্ড্রিসেনের বিরোধীরা বলেছেন যে তিনি নিজে যখন বিভিন্ন পডকাস্টে অংশ নেন তখন তিনি নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন, যা আসলে এক ধরনের আত্মসমালোচনা। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা বলেছেন যে তিনি আসলে ‘রুমিনেশন’ বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনাকে নিন্দা করেছেন, যা মানুষকে দুঃখিত করে তোলে। ইলন মাস্কও একই ধরনের মত প্রকাশ করে বলেছেন যে থেরাপি বা অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা মানুষকে দুঃখিত করে তোলে।
অ্যান্ড্রিসেন তার বিরোধীদের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বলেছেন, ‘অনেকেরই আরও বেশি আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।’ তিনি তার বিরোধীদের প্রতি নিজের মতামত উগ্রভাবে প্রকাশ করেছেন এবং নিজেকে ‘ইনট্রোস্পেকশনের বিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার এই মন্তব্যের পর ইন্টারনেটে চলছে তুমুল আলোচনা ও মিম তৈরির হিড়িক। অনেকেই তার মতকে সমর্থন জানিয়েছেন আবার কেউ কেউ তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে অ্যান্ড্রিসেনের এই মন্তব্য পুরো বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন