গত কয়েক বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহানগরীগুলিতে অভিবাসনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিন চতুর্থাংশ কাউন্টি অর্থাৎ জেলাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে অথবা নেতিবাচক হয়ে গেছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান শহরাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। অভিবাসনের হার কমে যাওয়ার কারণে শহরগুলির অর্থনীতি ও জনসংখ্যা উন্নয়নের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মহামারী পরবর্তী সময়ে অভিবাসনের নিয়মকানুন আরও কঠোর হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিধিনিষেধের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মহানগরীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার ফলে বহু অভিবাসী কর্মীরা স্থায়ীভাবে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছেন। এই প্রবণতা দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন কমে যাওয়ার ফলে শহরগুলির জনসংখ্যা ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। শহরগুলিতে কর্মী সংকট দেখা দিচ্ছে, যা মূলত নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং খুচরা ব্যবসার মতো ক্ষেত্রগুলিতে প্রভাব ফেলছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত শহরগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক আদমশুমারি প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে যে, মহানগরীগুলিতে অভিবাসনের হার কমে যাওয়ার ফলে শহরগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ইতিপূর্বের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলির মহানগরীগুলিতে এই প্রবণতা প্রকট। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতেও অভিবাসন কমার প্রভাব স্পষ্ট। অভিবাসীদের একটি বড় অংশ মূলত গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরে আসতেন, কিন্তু বর্তমানে সেই প্রবণতা কমে যাওয়ার ফলে শহরগুলির অর্থনীতি সংকটে পড়ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন সরকার অভিবাসন নীতিতে আরও শিথিলতা আনলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা জরুরি। অন্যথায় শহরগুলিতে কর্মী সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার কমে যাবে।
মন্তব্য করুন