যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ইরানের ওপর আরোপিত কিছু তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড অয়েল বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বিভিন্ন কারণে খুবই কঠোর ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে তেল আমদানির ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে। এর ফলে ইরান থেকে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা চাই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ যাতে স্থিতিশীল থাকে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
এদিকে, ইরান সরকারও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসরায়েল এবং সৌদি আরব কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে, ইরানের তেল সরবরাহ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপের প্রভাব কেমন হবে তা নির্ভর করবে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের উপর। এছাড়াও, বিশ্বের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলিও এই সিদ্ধান্তকে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা চাইছে না যে ইরান বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করুক, কারণ তা তাদের নিজস্ব তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নিচ্ছে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে ইরান থেকে তেল আমদানি করা যাবে, তবে তা নির্দিষ্ট পরিমাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নেরও চেষ্টা করছে।
মন্তব্য করুন