গণতন্ত্রের মর্মবাণীকে পদদলিত করার এক কুৎসিত প্রয়াস চলছে মার্কিন রাজনীতিতে। এখন আর ভোটাধিকারকে সমান সুযোগ দেয়ার কথা বলা নয়, বরং তা দমন করার চেষ্টা হচ্ছে। অথচ স্বয়ং ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তাঁর জীবনের শেষ অবধি লড়াই চালিয়ে গেছেন প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করার জন্য। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নাতনি সহ পরিবারের সদস্যরা আজ সোচ্চার হয়ে বলছেন, রাজনীতি নয়, মানুষের ভোটাধিকারই আগে।
মার্কিন কংগ্রেসে যখন ভোটাধিকার রক্ষার আইন পাস করার দাবিতে তাঁরা মিছিল করেছিলেন, তখন একজনও রিপাবলিকান সদস্য তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না। এমনকি ফিলিবাস্টার নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন পাসের জন্য তাঁরা যখন আবেদন জানিয়েছিলেন, তখনো কেউ তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু এখন যখন রিপাবলিকানরা নিজেরাই তাঁদের নিয়ম পরিবর্তন করে ভোটাধিকার দমনের নতুন আইন পাস করতে চাইছেন, তখন সবাই হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এ যেন এক দ্বিচারিতার মহোৎসব।
এমএলকে ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মার্টিন লুথার কিং থ্রি এবং প্রেসিডেন্ট অ্যারেন্ডিয়া ওয়াটার্স কিং লিখেছেন, “গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো প্রতিটি নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ। ড. কিং তাঁর জীবনে যে সংগ্রাম করেছেন, তা শুধু কালো মানুষের অধিকার নিয়ে নয়, বরং প্রতিটি মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে। অথচ আজ তাঁর নাতনি যখন হাইস্কুল থেকে স্নাতক হতে চলেছেন, তখনও সেই একই যুদ্ধ চলছে। কিছু রাজনীতিবিদরা চাইছেন সংখ্যালঘুদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে। তাঁরা ভোটাধিকারের পথে নতুন নতুন বাধা তৈরি করছেন।”
তাঁরা আরও বলেন, “ভোটাধিকার কোনো দলীয় বিষয় নয়। এটি আমেরিকান সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। ড. কিং সেলমায় যে লড়াই করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনে প্রতিটি মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু আজও সেই একই শক্তি তাঁদের বিরোধিতায় মেতে উঠেছে।”
মার্কিন অর্থনীতি যখন চাপে, বিশ্ব রাজনীতি যখন অনিশ্চিত, তখন ভোটাধিকার দমনের মতো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকা নেতাদের প্রতি তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলেন, “গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে কেউ ভোটাধিকার বৃদ্ধিকে ভয় পাবেন না। ভালো আইডিয়া থাকলে জনগণের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানো উচিত, দমন করা নয়।”
এমএলকে পরিবার এই লড়াইকে প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলেন, “আমাদের দেশের শক্তি আসে গণতন্ত্রকে প্রসারিত করার মধ্য দিয়ে, সীমাবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে নয়।” তাঁদের এই আহ্বান নতুন প্রজন্মের কাছে এক নতুন আলোকবর্তিকা হয়ে উঠুক।
মন্তব্য করুন