বিশ্বের দীর্ঘতম চলমান রিয়্যালিটি শো ‘দ্য ব্যাচেলরেট’-এর নির্মাতারা যখন টেলর ফ্র্যাঙ্কি পলকে এবার সিজনের মুখ্য চরিত্র হিসেবে নির্বাচন করেন, তখন তাঁরা ভালো করেই জানতেন যে তিনি আগের কোনো সিজনের ‘ব্যাচেলরেট’দের মতো সাধারণ ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ছিল আগের একটি যুগান্তকারী মারাত্মক ঘটনা—২০২৩ সালে তাঁর বয়ফ্রেন্ডের ওপর হামলা ও ধাতব চেয়ার নিক্ষেপের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। কিন্তু তারপরেও তাঁর বিশাল ফ্যানবেজ, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব ও মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্ব তাঁকে এই শোয়ের জন্য আদর্শ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তাঁর ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে ছিল সাত মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী।
তবে তিন দিন আগে টিএমজেড-এ প্রকাশিত ওই মারাত্মক ভিডিওর কারণে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ভিডিওতে দেখা যায় টেলর ফ্র্যাঙ্কি তাঁর সঙ্গী ডাকোটা মর্টেনসেনকে লাথি মারছেন, তাঁকে মুখে আটকে ধরে রাখছেন এবং ধাতব চেয়ার ছুড়ে মারছেন। ঘটনাটি ঘটেছিল তাঁর মেয়ের সামনে, যার ফলে শিশুটি কাঁদতে শুরু করে। এরপরেই ডিজনির অধীনস্থ এবিসি নেটওয়ার্ক পুরো সিজনটিই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে। ইতিমধ্যে শোয়ের সমস্ত পর্ব নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং ওয়ার্নার ব্রস-এর প্রযোজনা দল কয়েকটি প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা পর্বও জমা দিয়েছিল। বিজ্ঞাপনী আয় ও লাইসেন্সিং ফি মিলিয়ে এই স্থগিতকরণের কারণে এবিসির ক্ষতি হতে পারে কোটি কোটি টাকা।
টেলর ফ্র্যাঙ্কি পলের বিরুদ্ধে নতুন আরেকটি যৌন হিংসার মামলা দায়ের করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাঁর পূর্ববর্তীProbation-এর মেয়াদকে প্রভাবিত করতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলাটি এবার সংশোধিত হয়ে গুরুতর অপরাধ থেকে সাধারণ অপরাধে রূপান্তরিত হতে পারে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর সঙ্গী ডাকোটা মর্টেনসেন তাঁর বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদনও করেছেন। অন্যদিকে টেলর ফ্র্যাঙ্কির আইনজীবী দলও তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
এনির্বাচনের মাধ্যমে এবিসি ও ডিজনি তাদের নতুন নেতৃত্বের ক্ষমতার প্রথম পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। গত বুধবার ডিজনির নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জশ ডি’আমারো। তাঁর পূর্ববর্তী পদ ছিল পার্কস বিভাগের প্রধান। অন্যদিকে ডেবরা ওকোনেল নামে একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে ডিজনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনের নতুন চেয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে টেলর ফ্র্যাঙ্কির ‘ব্যাচেলরেট’ সিজনটি আদৌ প্রচার করা হবে কিনা। তবে ডিজনি সূত্রে জানা গেছে যে তারা এই মুহূর্তে সিজনটি স্থগিত করেছে মাত্র, চিরতরে বাতিল করা হয়নি।
এই ঘটনা ইতিমধ্যেই টেলিভিশন শিল্পের বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা নির্ভর শোগুলোর নির্মাতারা প্রায়ই এই ধরনের বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সমাজবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল লিন্ডেম্যান বলেছেন, ‘বাস্তবতাভিত্তিক টেলিভিশনের আকর্ষণই হলো ‘ট্রেন wreck’ মুহূর্তগুলো। কিন্তু যখন তা অত্যধিক হিংসাত্মক ও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তখন দর্শকদের কাছে তা গ্রহণযোগ্যতা হারায়।’ অন্যদিকে টেলর ফ্র্যাঙ্কির ঘটনাটি তাঁর নিজের জীবনেও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর ‘দ্য সিক্রেট লাইভস অফ মরমন ওয়াইভস’ শোটির নির্মাণ ইতিমধ্যেই স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে এবিসি ‘দ্য ব্যাচেলরেট’-এর পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য অনুষ্ঠান হিসেবে পুনঃপ্রচারিত করছে ‘আমেরিকান আইডল’। ঘটনাটি যখন ধীরে ধীরে জনসমক্ষে আসছে, তখন দর্শকদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন পুরুষের ক্ষেত্রে এমন অপরাধের কারণে তাঁকে কখনই প্রধান চরিত্র হিসেবে নির্বাচন করা হতো না। অন্যদিকে টেলর ফ্র্যাঙ্কির সমর্থকেরা তাঁকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন যে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা তাঁকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন