এনবিএ তারকা স্টিফেন ক্যারি তার দাম্পত্য জীবনের সাফল্যের পেছনে একটি সহজ নিয়মের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দাম্পত্য জীবনে দুজনেই একই সময়ে নিজেদের গুটিয়ে নিতে পারেন না। বিবাহিত জীবনে প্রায় পনেরো বছর পার করেছেন ক্যারি, যার মধ্যে রয়েছে ব্যস্ত এনবিএ ক্যারিয়ারের চাপ। এই দীর্ঘ সময়ে তারা নিজেদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছেন। সম্প্রতি ‘আইএমও’ নামক একটি পডকাস্টে তার স্ত্রী আয়েশার সঙ্গে অংশ নিয়ে ক্যারি বলেন, দাম্পত্য জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোকে তারা একসঙ্গে মোকাবিলা করেন।
‘আমরা প্রতিদিনকার টানাপোড়েন থেকে পালিয়ে যাই না,’ বলেন ক্যারি। ‘আমরা একে অপরকে ছেড়ে চলে যাব না’— এটিই তাদের সম্পর্কের মূলমন্ত্র। তিনি আরও বলেন, সঙ্গীর প্রয়োজন বুঝে তাকে সমর্থন দেওয়া এবং নিজে বেশি দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। ক্যারি দম্পতি ২০১১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে। তারা প্রথম দেখা করেন কৈশোরে গির্জায়।
ক্যারির মত অনুযায়ী, সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন আসবেই, কিন্তু তা থেকে পালিয়ে না গিয়ে তা মোকাবিলা করাই উচিত। ‘আমরা প্রতিদিনের টানাপোড়েন থেকে পালিয়ে না গিয়ে তা মোকাবিলা করার চেষ্টা করি, কারণ তা আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে,’ বলেন তিনি। আয়েশা ক্যারিও তার মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তাদের সম্পর্ক সবসময়ই পরিবারের উপরে প্রাধান্য পায়। ‘আমাদের জন্য আমাদের সম্পর্কই সবার আগে, তারপর আমরা অভিভাবক,’ বলেন আয়েশা। তিনি আরও বলেন, দুজনের সুখী সম্পর্কই সন্তানদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
এই দম্পতি তাদের সম্পর্ককে আরও উন্নত করতে নিয়মিত চেষ্টা করেন। জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে তারা নিজেদের মধ্যে বিভেদ না এনে একত্রিত হয়ে মোকাবিলা করার চেষ্টা করেন। ক্যারি আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাদের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, জীবনের যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জকে তারা নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে সমাধানের চেষ্টা করেন। আয়েশাও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাদের সম্পর্ক সবসময়ই পরিবারের উপরে স্থান পায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কই সবার আগে, তারপর আমরা অভিভাবক।’ তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
ক্যারি দম্পতির এই মানসিকতাই অন্যদের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। বিবাহিত জীবনে টানাপোড়েন আসবেই, কিন্তু তা থেকে পালিয়ে না গিয়ে একসঙ্গে মোকাবিলা করার মানসিকতা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অনেকেই অনুপ্রাণিত হতে পারেন।
মন্তব্য করুন