তিন বছর আগে জাপানের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাসবল ক্লাসিকের ফাইনালে হেরেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়—শেষ ইনিংসে মাইক ট্রাউটকে আউট করে জয় তুলে নিয়েছিল সামুরাই জাপান। কিন্তু এবার ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে পরাজয়ের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন দলটি যখন মাঠে নামে, তখন তাদের গায়ে ছিল সাম্প্রতিককালের শীতকালীন অলিম্পিক হকিতে স্বর্ণপদক জয়ী দলের জার্সি। কিন্তু সেই তুলনা এখানেই শেষ। যেখানে হকি দলটি এক ইঞ্চির জন্য লড়াই করেছিল, সেখানে মার্কিন বেসবল দলটি ছিল পুরোপুরি উদাসীন।
বিশ্ব ব্যাসবল ক্লাসিকের এই ফাইনালে মার্কিন দলের ব্যাটসম্যানরা যেন হারিয়ে গিয়েছিল। এমভিপি খ্যাত খেলোয়াড়রা পর্যন্ত ৯২ মাইল গতির ফাস্টবলে ভুলে যাচ্ছিল কীভাবে ব্যাট ধরতে হয়। কেউ কেউ বেসে পৌঁছালেও পরবর্তী খেলোয়াড়রা ছিলেন নির্বিকার। ম্যানেজার মার্ক ডিরোজা দর্শকদের মতনই হতবিহ্বল ছিলেন। তার দলটি যেন ছিল একটি সুপারকার যা গ্যারেজ থেকে বের হওয়ার আগেই বিকল হয়ে গিয়েছিল।
এই পরাজয়ের জন্য কাকে দায়ী করা যায়? মার্কিন দলের ম্যানেজার মার্ক ডিরোজাকে কি তার ভূমিকা পালনে ব্যর্থ বলে মনে করা উচিত? তিনি কি খেলোয়াড়দের পরিচালনায় যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন না নাকি টুর্নামেন্টের নিয়মকানুন সম্পর্কেও তার ধারণা কম ছিল? এমনকি যখন তার দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, তখন তিনি গুনার হেন্ডারসনকে বাদ দিয়ে অ্যালেক্স ব্রেগম্যানকে মাঠে নামিয়েছিলেন।
আবার, ট্যারিক স্কুবলের কথাও বলা দরকার। তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পিচার। তবু সেমিফাইনাল ও ফাইনালে নামার পরও তিনি খেলেননি। গ্রেট ব্রিটেনের বিপক্ষে মাত্র তিন ইনিংস খেলে তিনি দল ছেড়ে চলে যান। কয়েকদিন আগেই তিনি ডেট্রয়েট টাইগার্সের হয়ে প্রায় ৬০টি পিচ করেছিলেন। তাহলে কেন তিনি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাঠে নামতে পারলেন না?
এবার অ্যারন জাজের কথায় আসা যাক। তিনি তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি যেন হারিয়ে গেলেন। চারবার ব্যাট হাতে তিনি তিনবার আউট হলেন এবং একবারও বেসে পৌঁছাতে পারলেন না। তার প্রতিটি ব্যাটিংয়ে দর্শকরা আশা করেছিলেন তিনি দলকে উদ্ধার করবেন। কিন্তু তার পরিবর্তে ব্রাইস হার্পারই ছিলেন দলের একমাত্র আলোকবর্তিকা—অষ্টম ইনিংসে তার দুই রানের হোমরান দলকে কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রেখেছিল। জাজ পরবর্তী ব্যাটিংয়ে দর্শকরা ‘ইউ-এস-এ’ ধ্বনিতে উল্লাস করলেও তিনি শুধু তৃতীয় স্ট্রাইকে আউট হলেন।
এই পরাজয়ের জন্য কোনো একজন খেলোয়াড় বা কোচকে দায়ী করা যায় না। এটি ছিল একাধিক ক্ষুদ্র ভুলের সমষ্টি—খেলোয়াড়দের দল ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, অসহায় ব্যাটিং এবং নেতৃত্বের অভাব। তবে এই ব্যর্থতার প্রধান দায়ভার বহন করতে হবে মার্ক ডিরোজাকেই। তিনি ছিলেন সেই নেতা যিনি তার দলকে সুপারহিরো হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন কিন্তু খেলোয়াড়রা ছিলেন যেন গৌণ চরিত্র।
অ্যারন জাজ, অ্যালেক্স ব্রেগম্যান বা ক্যাল রেলের মতো খেলোয়াড়দের জন্য সামনের সপ্তাহেই শুরু হতে যাওয়া এমএলবি মৌসুমে প্রতিশোধের সুযোগ রয়েছে। যদি জাজ নিউইয়র্ক ইয়ানকিদের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব সিরিজ জয় করতে পারেন, তাহলে বিশ্ব ব্যাসবল ক্লাসিকের ব্যর্থতা মার্কিন মুল্লুকের ভক্তদের কাছে ভুলে যাওয়ার মতই হবে। কিন্তু ডিরোজার ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রতিশোধের সুযোগ নেই। দুই বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসে যখন মার্কিন দল অলিম্পিকে অংশ নেবে, তখন অন্য কেউই দায়িত্ব পালন করুক। হয়তো তখন তারা টাইব্রেকারের নিয়মগুলোও জানবে।
মন্তব্য করুন