গ্লোবাল ফ্রিডম নামে পরিচিত একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন—যেখানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ক্রমাবনতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা, সেন্সরশিপের বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে এ প্রবণতা আরও প্রকট হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত এক দশকে বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশে রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতার সূচকে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশে স্বাধীনতার সূচক সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশেও স্বাধীনতার অধঃপতন ঘটেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশেও কিছু ক্ষেত্রে স্বাধীনতার সূচক কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্লোবাল ফ্রিডমের নির্বাহী পরিচালক সারাহ রিড বলেন, ‘এই প্রতিবেদনটি বিশ্ববাসীর জন্য একটি সতর্কবার্তা। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার অধঃপতন মানবাধিকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারগুলোর উচিত তাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনটি সরকার, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার সুরক্ষায় আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।’
প্রতিবেদনটি তৈরিতে গবেষকরা বিশ্বের ১৯৫টি দেশের রাজনৈতিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি দেশকে স্বাধীনতা সূচকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সূচকে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে স্বাধীনতার সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, ইরান, আফগানিস্তান ও সিরিয়ার মতো দেশগুলো।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিরোধী দলের অধিকার সংকুচিত হওয়ায় স্বাধীনতার সূচক কিছুটা কমেছে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে স্বাধীনতার সূচক হ্রাস পেয়েছে। তবে ভারত সরকার দাবি করেছে যে, দেশটির গণতন্ত্র সুসংহত রয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ।
এই প্রতিবেদনের ফলে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রপ্রেমীরা আরো সজাগ হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সংস্থাগুলোর মতে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অধঃপতন মানবাধিকারের জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
মন্তব্য করুন