বিশ্বকাপের প্রস্তুতি থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমার। কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে ব্রাজিল দলের সর্বশেষ স্কোয়াড ঘোষণায় তাঁর নাম নেই। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত হলেও নেইমারের হাতে এখনও সময় আছে মাত্র ৬২ দিন। আর এই সময়েই ব্রাজিলের হয়ে তাঁকে ফিরতে হবে অন্তত ১৬টি ম্যাচে। না হলে বিশ্বকাপের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নের আরেক অংশকে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে—একটি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ২৬ মার্চ রাতে এবং অন্যটি ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ১ এপ্রিল ভোরে। এই দুই ম্যাচের জন্যই আনচেলত্তি যে ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, তাতে নেইমারের নাম নেই। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ব্রাজিলের হয়ে তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ছিল প্রায় পাঁচ মাস আগে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে। ক্রমাগত চোট আর ফিটনেস সমস্যার কারণে জাতীয় দল থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন তিনি।
আনচেলত্তির সিদ্ধান্তে অনেকেই দেখছেন বিশেষ কারণ। ব্রাজিল স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগে ১১ মার্চ সান্তোস-মিরাসল ম্যাচের সময় আনচেলত্তি স্ট্যান্ডে ছিলেন। কিন্তু ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’-এর অজুহাতে নেইমার সেই ম্যাচ খেলেননি। অনেকে আবার বলছেন, তাঁর অনুপস্থিতির কারণ ছিল তাঁর বোনের জন্মদিন উদযাপন। এমন ঘটনা নাকি তিনি গত ১১ বছর ধরেই করে আসছেন। তবে আনচেলত্তি নিজে কিন্তু নেইমারের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘যদি নেইমার শতভাগ ফিট হন, তাহলে তাঁকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হতে পারে।’
ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার শেষ সুযোগটি নিজেকে প্রমাণের। আনচেলত্তি আরও বলেছেন, বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়রা সময়ের সাথে সাথে ফিটনেস ফিরে পান। তাই নেইমারের জন্য এখনও আশা রয়েছে। তবে তাঁকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে ব্রাজিলি লিগে অন্তত ১০ ম্যাচ, কোপা ব্রাজিলে দুই ম্যাচ এবং কোপা সুদামেরিকানায় চার ম্যাচ খেলে। এই ম্যাচগুলোই তাঁকে ব্রাজিল দলের জার্সি আবার গায়ে চাপানোর সুযোগ করে দিতে পারে।
নেইমারের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, ‘ডাক না পেয়ে মন খারাপ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মনোযোগটা এখনও চূড়ান্ত স্কোয়াডের দিকে। স্বপ্ন এখনও টিকে আছে।’ তবে তাঁর জন্য সময়ের হিসাব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ৩৪ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হতে পারে আরও দ্রুত, যদি না তিনি নিজেকে এখনই প্রমাণ করতে পারেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতিই হবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কিন্তু সময়ই বলে দেবে, সেই প্রাপ্তিতে তাঁর ভূমিকা থাকবে কিনা।
মন্তব্য করুন