সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানযাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একটি বিমানের ককপিটের কাছে স্থাপিত একটি বিশেষ ‘জেল’ সদৃশ কাঠামোর ছবি পোস্ট করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। ছবিটি শেয়ার করার সময় তিনি এটিকে ‘স্কাই জেল’ বা ‘আকাশ জেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে এবং একাধিক ব্যবহারকারী এই ব্যবস্থাটির উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
ছবিটিতে দেখা যায়, একটি স্বল্প-ওজন বিশিষ্ট ধাতব গ্রিলের মতো কাঠামো বিমানের ককপিটের প্রধান দরজার কাছে স্থাপিত। প্রাথমিকভাবে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এটি হাইজ্যাকার বা বিপদজনক যাত্রীদের আটকানোর জন্য নির্মিত কোনো বিশেষ ব্যবস্থা। তবে পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি আসলে একটি ‘সেকেন্ডারি ককপিট ব্যারিয়ার’ বা ‘গৌণ ককপিট প্রতিবন্ধক’ ব্যবস্থা। মূলত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর থেকে বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। সেই সময় থেকেই বিমানের ককপিটের দরজাগুলোকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রতিরোধক্ষম করে তোলা হয়। তবে সেই দরজা মাঝেমধ্যে খোলার প্রয়োজন হয়, যেমন পাইলটদের বিশ্রাম বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কারণে। আর সেই সময়টিতেই ককপিটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রতিবন্ধক ব্যবস্থাটি স্থাপন করা হয়।
জানা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সম্প্রতি নতুন নির্মিত বাণিজ্যিক বিমানগুলোর জন্য এই ব্যবস্থাটিকে বাধ্যতামূলক করেছে। যদিও পুরোনো বিমানগুলোতে এখনও এটি স্থাপন করা হয়নি। এটি মূলত একটি হালকা ও সহজেই প্রত্যাহারযোগ্য গ্রিল, যা ককপিটের দরজা খোলা থাকা অবস্থায়ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পূর্বে এই উদ্দেশ্যে বিমানের পানীয় পরিবেশনকারী কার্ট ব্যবহার করা হতো, যার মাধ্যমে বিমান কর্মীদের ককপিটের প্রবেশপথ আটকে রাখতে হতো। তবে সেই ব্যবস্থাটি ছিল অনেকাংশেই অনিয়মিত ও অনির্ভরযোগ্য।
সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি তাদের নতুন বিমানগুলোতে এই ব্যবস্থাটি যুক্ত করা শুরু করেছে। তাদের প্রথম বিমানটি যেখানে এই ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে তা গত ২৯ আগস্ট প্রথম যাত্রা শুরু করে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো বিমান সংস্থা যেখানে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যদিও এফএএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, এটি পুরোপুরি বাধ্যতামূলক হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে এয়ারলাইন্সগুলো ইতোমধ্যেই স্বেচ্ছায় এই ব্যবস্থাটি প্রয়োগ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যবস্থাটিকে নিয়ে বেশ কিছু মতামত পাওয়া যায়। কেউ কেউ এটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেন যে, এই ব্যবস্থাটি ২০০১ সালের হামলার পর থেকেই প্রয়োজন ছিল। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটি আসলে একটি নিয়ম যা ৯/১১ এর পর পাস হয়েছিল, কিন্তু পুরোনো বিমানগুলোতে এটি যুক্ত না করেই সময় কাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন বিমানগুলোতে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।” অন্যদিকে, কেউ কেউ এই ব্যবস্থাটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “এটি ২৪ বছর পর চালু করা হচ্ছে। যদি এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হতো, তাহলে ২৪ বছর আগেই করা উচিত ছিল।”
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ব্যবস্থাটি বিমানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনোরকম বিঘ্ন ঘটায় না। এটি কেবলমাত্র ককপিটের দরজা খোলা থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করে। নতুন বিমানগুলোতে এই ব্যবস্থাটি যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে পুরোনো বিমানগুলোতেও এটি যুক্ত করা হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে যাত্রীরা প্রায়শই বিমানের ককপিটের কাছে এমন প্রতিবন্ধক ব্যবস্থা দেখতে পাবেন।
উল্লেখ্য, রেডিট ব্যবহারকারী Minimum_Raspberry_81 এর পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর নিউজউইকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য প্রদান করেননি। তবে তার পোস্টটি বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিবর্তন সম্পর্কে নতুন করে চিন্তাভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন