যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এখন থেকে নিরাপত্তা লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করতে শুরু করেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এর কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আইসিই কর্মীরা যাত্রীদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তা যাচাই করছেন। তবে এখনও স্পষ্ট নয় যে এই পদক্ষেপের ফলে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় কমবে নাকি বাড়বে। অনেক যাত্রীই এই প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। তবে যাত্রীদের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। অনেকেই মনে করছেন যে এই পদক্ষেপের ফলে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় আরও বেশি সময় লাগবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অনিয়মিত অভিবাসীদের ধরার জন্য আইসিই কর্মীদের পদচারণা ছিল। তবে এবার সরাসরি যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি আরও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই উদ্যোগের ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তবে যাত্রীদের জন্য এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই এখন বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে পরিচয়পত্র এবং যাত্রার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার বিষয়ে আরও সচেতন হচ্ছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের জন্য আরও স্বচ্ছ নির্দেশিকা প্রদানের চেষ্টা করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপের ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই প্রক্রিয়ার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করা যায়।
ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত করা হবে কিনা তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগের কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিছু যাত্রী এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ যে এই পদক্ষেপের ফলে তাদের সময়ের অপচয় হচ্ছে।
যাইহোক, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই পদক্ষেপের ফলে দেশের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে যাত্রীদের উদ্বেগ দূর করতে আরও স্বচ্ছতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন