মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টগুলোতে গত সপ্তাহে অস্বাভাবিক দীর্ঘ লাইনের মুখোমুখি হতে হয়েছে ভ্রমণকারীদের। সরকারের আংশিক স্থগিতাবস্থার কারণে অর্থাভাবে বেতনহীন টিএসএ কর্মীরা কাজে যোগ না দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বসন্তকালীন ছুটির মরসুমে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় লাইনের দৈর্ঘ্য আরও বেড়ে যায়। বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের উড়োজাহাজ ছাড়ার তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
টিএসএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আট শতাধিক কর্মী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং কয়েকশত কর্মী অনশন পালন করছেন। তারা কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন সরকারি স্থগিতাবস্থার অবসান ঘটানো হয়। এছাড়া বিমান সংস্থাগুলোর প্রধান নির্বাহীরাও একটি যৌথ চিঠিতে সরকারকে এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত মঙ্গলবার সকালে কিছু চেকপয়েন্টে লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় একশ মিনিট। তবে সন্ধ্যায় তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সকালে লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল ত্রিশ মিনিটের বেশি, তবে সন্ধ্যায় তা বিশ মিনিটের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন চেকপয়েন্টে লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল ত্রিশ মিনিট থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত।
অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও দীর্ঘ লাইনের কারণে যাত্রীরা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হন। এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত লাইন সম্পর্কিত আপডেট প্রদান করছে। লাস ভেগাস বিমানবন্দরে সাধারণ এবং টিএসএ প্রি-চেক লাইনে যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও অন্যান্য বিমানবন্দরে অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের আরও বেশি সময় নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডেনভার এবং সিয়াটেলের মতো বিমানবন্দরগুলোতে টিএসএ কর্মীদের জন্য খাদ্য ও গিফট কার্ড সংগ্রহের আয়োজন করা হয়েছে। যাত্রীরা যাতে সময়মতো বিমানে উঠতে পারেন সেজন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিচ্ছে। টিএসএ ওয়েট টাইম চেক করার জন্য বিভিন্ন বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে লাইভ আপডেট প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ‘মাইটিএসএ’ অ্যাপের মাধ্যমেও যাত্রীরা লাইনের দৈর্ঘ্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।
মন্তব্য করুন