একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের আনন্দই সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিজের স্বামী আর ১৩ বছরের ছেলেকে লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়ে সেই আনন্দই উপভোগ করলেন এক মা। কারণটা খুব সহজ—পুরো পরিবারের জন্য নয়, শুধু স্বামী আর ছেলের জন্য বিশেষ একটা সময় তৈরি হয়েছিল সেখানে। ফুটবল প্রেমী ছেলেকে নিয়ে স্বামী গিয়েছিলেন প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দেখতে। আর সেই সময়টা উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে মা নিজেও খুশি হয়েছিলেন নিজের একাকীত্বের মধ্যেই।
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো একজন ট্রাভেল রাইটার হয়েও এই ট্রিপটার জন্য নিজেকে যুক্ত করতে পারেননি বলে অবাক লাগছিল না তার। কারণটা ছিল অন্যরকম। বার মিৎজাহ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে স্বামী আর ছেলেকে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই লন্ডনকে বেছে নিয়েছিলেন তারা। কারণ স্বামীর পূর্বপুরুষের জন্ম ম্যানচেস্টারে, তাই ইংল্যান্ডেই গিয়েছিলেন তারা। ফুটবল দেখতে দেখতে কাটিয়েছিলেন কয়েকটি দিন। আর সেই সময়টাতেই মা নিজের জন্য একটু সময় নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন নিজের ঘরে।
লন্ডনের টটেনহ্যাম স্টেডিয়ামে বসে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা যে কতটা রোমাঞ্চকর হতে পারে, তা বর্ণনা করতে গিয়ে ছেলেটির উত্তেজিত কণ্ঠস্বর যেন ফুটে উঠছিল মায়ের মনে। “মা, বিশ্বাস করতে পারছি না! আমাদের আসনগুলো ছিল অসাধারণ! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলটা আমরা সরাসরি সামনে থেকে দেখেছি!”—ছেলের এমন উচ্ছ্বসিত কথাগুলো শুনে মা নিজেও আনন্দে ভাসছিলেন। ছেলের মুখের সেই হাসি দেখেই তার নিজের আনন্দ আরও বেড়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে স্বামীর পাঠানো ছবিগুলো দেখে তিনি উপভোগ করেছিলেন নিজের ঘরে বসে থাকা সময়টুকু।
এই ট্রিপের সবচেয়ে ভালো দিকটা ছিল স্বামী আর ছেলের একান্ত সময় কাটানো। এমন অনেক গবেষণা রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, বাবা আর ছেলের একসঙ্গে সময় কাটানো তাদের মানসিক বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখে। সেই কারণেই নিজের ছেলেকে নিয়ে স্বামী যখন বিদেশে গেলেন, তখন তিনি নিজেও খুশি হয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, এই সময়টা তাদের জন্য কতটা মূল্যবান হতে পারে। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে তিনি উপভোগ করেছিলেন নিজের একাকীত্বের মুহূর্তগুলো। এমনকি রান্না করার চিন্তা না করে, নিজের ইচ্ছেমতো সিরিয়াল খেয়ে রাতের খাবার সারার স্বপ্নটাও যেন বাস্তব হয়ে উঠেছিল তার কাছে।
লন্ডনে থাকাকালীন স্বামী আর ছেলের পাঠানো টেক্সট আর ছবিগুলো দেখে তিনি নিজেও আনন্দিত হয়েছিলেন। যদিও আট ঘণ্টার সময় পার্থক্যের কারণে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ ছিল না, তবুও রোজ সকালে ফোন চালু করেই তিনি দেখতেন ছেলে আর স্বামীর পাঠানো নতুন নতুন ছবি। লন্ডনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান আর ফুটবল স্টেডিয়ামের সামনে তাদের ছবি দেখে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, তিনজনই যেখানে যেখানে থাকার কথা, সেখানেই রয়েছেন। আর সেই সঙ্গে তিনি উপভোগ করছেন নিজের ঘরে থাকার স্বাচ্ছন্দ্য।
তাদের ফিরে আসার পর বাবা আর ছেলে ফিরেছিলেন অনেক স্মৃতি আর উপহার নিয়ে। বেশ কয়েকটা পুরোনো ফুটবল জার্সিও তাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় উপহার ছিল তাদের মুখের হাসি আর সেই আনন্দময় সময়টা। কারণ মা জানতেন, কখনও কখনও ঘরে থাকাই পারে এমন একটা আনন্দের উৎস যা ভ্রমণে পাওয়া যায় না। নিজের সন্তানের সুখকে নিজের সুখ হিসেবে ভাবতে পারাটাই আসলে মাতৃত্বের সেরা স্বাদ।
মন্তব্য করুন