ProbasiNews
২৮ মার্চ ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রইল না, তাই স্বামী আর ছেলেকে পাঠিয়ে দিলাম লন্ডনে! কেন জানেন?

একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের আনন্দই সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিজের স্বামী আর ১৩ বছরের ছেলেকে লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়ে সেই আনন্দই উপভোগ করলেন এক মা। কারণটা খুব সহজ—পুরো পরিবারের জন্য নয়, শুধু স্বামী আর ছেলের জন্য বিশেষ একটা সময় তৈরি হয়েছিল সেখানে। ফুটবল প্রেমী ছেলেকে নিয়ে স্বামী গিয়েছিলেন প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দেখতে। আর সেই সময়টা উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে মা নিজেও খুশি হয়েছিলেন নিজের একাকীত্বের মধ্যেই।

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো একজন ট্রাভেল রাইটার হয়েও এই ট্রিপটার জন্য নিজেকে যুক্ত করতে পারেননি বলে অবাক লাগছিল না তার। কারণটা ছিল অন্যরকম। বার মিৎজাহ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে স্বামী আর ছেলেকে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই লন্ডনকে বেছে নিয়েছিলেন তারা। কারণ স্বামীর পূর্বপুরুষের জন্ম ম্যানচেস্টারে, তাই ইংল্যান্ডেই গিয়েছিলেন তারা। ফুটবল দেখতে দেখতে কাটিয়েছিলেন কয়েকটি দিন। আর সেই সময়টাতেই মা নিজের জন্য একটু সময় নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন নিজের ঘরে।

লন্ডনের টটেনহ্যাম স্টেডিয়ামে বসে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা যে কতটা রোমাঞ্চকর হতে পারে, তা বর্ণনা করতে গিয়ে ছেলেটির উত্তেজিত কণ্ঠস্বর যেন ফুটে উঠছিল মায়ের মনে। “মা, বিশ্বাস করতে পারছি না! আমাদের আসনগুলো ছিল অসাধারণ! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলটা আমরা সরাসরি সামনে থেকে দেখেছি!”—ছেলের এমন উচ্ছ্বসিত কথাগুলো শুনে মা নিজেও আনন্দে ভাসছিলেন। ছেলের মুখের সেই হাসি দেখেই তার নিজের আনন্দ আরও বেড়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে স্বামীর পাঠানো ছবিগুলো দেখে তিনি উপভোগ করেছিলেন নিজের ঘরে বসে থাকা সময়টুকু।

এই ট্রিপের সবচেয়ে ভালো দিকটা ছিল স্বামী আর ছেলের একান্ত সময় কাটানো। এমন অনেক গবেষণা রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, বাবা আর ছেলের একসঙ্গে সময় কাটানো তাদের মানসিক বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখে। সেই কারণেই নিজের ছেলেকে নিয়ে স্বামী যখন বিদেশে গেলেন, তখন তিনি নিজেও খুশি হয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, এই সময়টা তাদের জন্য কতটা মূল্যবান হতে পারে। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে তিনি উপভোগ করেছিলেন নিজের একাকীত্বের মুহূর্তগুলো। এমনকি রান্না করার চিন্তা না করে, নিজের ইচ্ছেমতো সিরিয়াল খেয়ে রাতের খাবার সারার স্বপ্নটাও যেন বাস্তব হয়ে উঠেছিল তার কাছে।

লন্ডনে থাকাকালীন স্বামী আর ছেলের পাঠানো টেক্সট আর ছবিগুলো দেখে তিনি নিজেও আনন্দিত হয়েছিলেন। যদিও আট ঘণ্টার সময় পার্থক্যের কারণে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ ছিল না, তবুও রোজ সকালে ফোন চালু করেই তিনি দেখতেন ছেলে আর স্বামীর পাঠানো নতুন নতুন ছবি। লন্ডনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান আর ফুটবল স্টেডিয়ামের সামনে তাদের ছবি দেখে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, তিনজনই যেখানে যেখানে থাকার কথা, সেখানেই রয়েছেন। আর সেই সঙ্গে তিনি উপভোগ করছেন নিজের ঘরে থাকার স্বাচ্ছন্দ্য।

তাদের ফিরে আসার পর বাবা আর ছেলে ফিরেছিলেন অনেক স্মৃতি আর উপহার নিয়ে। বেশ কয়েকটা পুরোনো ফুটবল জার্সিও তাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় উপহার ছিল তাদের মুখের হাসি আর সেই আনন্দময় সময়টা। কারণ মা জানতেন, কখনও কখনও ঘরে থাকাই পারে এমন একটা আনন্দের উৎস যা ভ্রমণে পাওয়া যায় না। নিজের সন্তানের সুখকে নিজের সুখ হিসেবে ভাবতে পারাটাই আসলে মাতৃত্বের সেরা স্বাদ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হারভে কেন ওপেনএআইয়ের মতোই তুলছে বিপুল অর্থ? আইনশিল্পে বিপ্লবের লক্ষ্যে হারভের অভিযান

এআই বিপ্লবে নতুন শক্তি: মেটার বিশাল চুক্তির পরেও কেন থামছে না নেবিয়াস?

অ্যামাজনের নতুন পরীক্ষা: অন্যান্য ওয়েবসাইটেও প্রাইম সদস্যদের ফ্রি শিপিং সুবিধা!

দ্রুত বর্ধিত ও দ্রুত সঙ্কুচিত মার্কিন শহরসমূহ

মাইক্রোসফটের ব্যবস্থাপক থেকে চাকরি হারিয়ে তিন বছরেও কর্মহীন! মনোবল হারাননি করিনা

মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনে বিপুল বৃদ্ধি

বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রইল না, তাই স্বামী আর ছেলেকে পাঠিয়ে দিলাম লন্ডনে! কেন জানেন?

চল্লিশ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ক্যালওয়ে’র দেউলিয়ার ঘোষণা, বব ডিল্যানকে চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বাকি!

বিশ্বযুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা: অসম্ভব সবকিছু রক্ষা করা, পশ্চিমাদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হওয়া

বিমানবন্দরে আইসিই কর্মীদের যাত্রী পরিচয় যাচাই শুরু

১০

বিখ্যাত গীতিকার চিপ টেলরের মৃত্যু: সঙ্গীত জগতের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

১১

আফ্রিকার জন্য উদ্দেশ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে

১২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহানগরীগুলিতে অভিবাসন কমার প্রভাব: আদমশুমারি প্রতিবেদনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৩

নিউ ইয়র্ক সিটিতে অভিবাসন কমায় জনসংখ্যা স্থবির, দেশজুড়ে উদ্বেগ

১৪

ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতাদের দ্বিধায় ফেলল ট্রাম্পের হুমকি

১৫

ঠান্ডা যুদ্ধের মহান অপরাধ: জাতির জনককে হত্যার দায় কোনও দেশের কাঁধে না থাকা কেন?

১৬

২০২৬-এর টিএসএ জটিলতা: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে যাত্রীদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা

১৭

অনলাইন জুয়ার আয় থেকে শুরু, এখন জাতীয় স্তরের রেস্তোরাঁ চেইনের মালিক! এক উদ্যোক্তার বিস্ময়কর গল্প

১৮

পদ্মাপারে শোকের ছায়া: দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবিতে স্বজনদের বিলাপ

১৯

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সামরিক তৎপরতা নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে

২০