চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনা নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে বিধ্বস্ত করেছে। ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকরা ৭-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলে এগিয়ে থাকায় ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করেছে। নিউক্যাসলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দলটির সেরা খেলোয়াড় অ্যান্থনি এলাঙ্গা দুটি গোল করলেও শেষ পর্যন্ত তা দলকে রক্ষা করতে পারেনি।
৬১ মিনিট পর্যন্ত নিউক্যাসল পিছিয়ে ছিল ৬-১ গোলে। গোলরক্ষক অ্যারন রামসডেল তখন পর্যন্ত কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। বিরতির আগে পর্যন্ত বার্সেলোনা তিনটি গোল করে এগিয়ে থাকলেও নিউক্যাসল তা পূরণ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে দলটির দুর্বলতা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ পায়। প্রথমার্ধের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আশা ছিল নিউক্যাসলের, কিন্তু বার্সার দ্রুত তিনটি অতিরিক্ত গোল তা নস্যাত করে দেয়। এলাঙ্গার পরপর দুটি গোল থাকলেও বার্সার রবার্ট লেভানডফস্কি ও রাফিনিয়া দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেননি।
ম্যাচের শুরুতেই বার্সার আক্রমণাত্মক শক্তির প্রকাশ দেখা যায়। ছয় মিনিটের মধ্যেই রাফিনিয়ার গোল বার্সাকে এগিয়ে দেয়। এরপর এলাঙ্গার সমতাসূচক গোলের পর মার্ক বার্নাল আবারও বার্সাকে সামনে নিয়ে যান। তবে নিউক্যাসলের প্রতিরোধ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে এলাঙ্গা আবারও গোল করে দলকে সমতা ফিরিয়ে আনেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে যোগ করা সময়ে বার্সার পেনাল্টি থেকে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল, যা নিউক্যাসলের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার স্বপ্নকে ভেঙে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার আক্রমণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। মাত্র ২৭ মিনিটের মধ্যে বার্সা আরও তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। ফারমিন লোপেজ, রবার্ট লেভানডফস্কি ও রাফিনিয়া—তিনজনই দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। লেভানডফস্কি চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪১টি ভিন্ন দলের বিরুদ্ধে গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েন, যা লিওনেল মেসির আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে ইয়ামাল হয়ে উঠেন ইউরোপের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে দশ গোলের মাইলফলক স্পর্শকারী।
এই জয় বার্সেলোনাকে ইউরোপের মঞ্চে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেলেও নিউক্যাসলের জন্য এটি ছিল হতাশাজনক পরিণতি। দলটির প্রধান দুর্বলতা হিসেবে প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়া এবং আক্রমণের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বার্সা তাদের শিরোপা লড়াই অব্যাহত রাখলেও পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে আতলেতিকো মাদ্রিদ বা টটেনহ্যাম হটস্পারের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন