বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান অনলাইন শপিং অভ্যাসের মধ্যেও বাংলাদেশে কয়েক ধরনের শপিং মল বিশেষভাবে চমক দেখাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির শপিং মলগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অভিজাত এলাকা ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর লক্ষ্য করে নির্মিত মলগুলোতে ভিড়ের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি মহামারী পরবর্তী সময়েও এই ধরনের মলগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিক্রেতারা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে পরিষেবার মান উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক কেনাকাটা। যেখানে সাধারণ মলে ক্রেতারা শুধুমাত্র পণ্য কিনেই সন্তুষ্ট হন, সেখানে অভিজাত মলগুলোতে ক্রেতারা নিজেদেরকে বিশেষভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট, খাদ্য উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় ধরে মলে অবস্থান করানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে, ক্রেতারা শুধু পণ্য ক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না, বরং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে আনন্দময় সময় কাটানোর স্থান হিসেবে এই মলগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে একাধিক অভিজাত শপিং মলের নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় নির্মিতব্য নতুন মল ‘ইস্টার্ন মল’ ও চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় নির্মিত ‘চিটাগাং প্যালেস মল’। এই মলগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দোকান ছাড়াও রয়েছে স্থানীয় উচ্চমানের রেস্তোরাঁ, থিয়েটার হল ও ক্রীড়া সুবিধা। ফলে, ক্রেতারা কেবলমাত্র কেনাকাটার জন্যই নয়, বিনোদনের জন্যও এই মলগুলোতে আসছেন।
তবে সব ধরনের মলই যে এই সাফল্য অর্জন করেছে তা নয়। সাধারণ মলগুলোতে এখনও ভিড় কমতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থিত পুরোনো মলগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা অনলাইন শপিংয়ের সুবিধা ও যানজটের মতো সমস্যাকে দায়ী করছেন। ফলে, নতুন মল নির্মাণের আগে বিনিয়োগকারীদের স্থান নির্বাচন ও পরিষেবার মান নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে অভিজাত শপিং মলগুলোর প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে যদি সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা যায়। বিশেষ করে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রেতাদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির উপর জোর দিতে হবে। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ ছাড় ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে অভিজাত মলগুলোর সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
মন্তব্য করুন