বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ ও শক্তি সংকটের মুখে বাংলাদেশ সরকার দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনাগুলো সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আইনসভার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেশনসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য।
নতুন নির্দেশনাগুলো অনুযায়ী, দিনের আলো যথেষ্ট থাকলে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা উচিত নয়। অফিসের জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খোলা রাখতে হবে যাতে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা যায়। অফিসের আলো ব্যবহার করার সময় মোট আলোর অর্ধেকের চেয়ে বেশি আলো না ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অফিসের ঘণ্টা চলাকালীন অবশ্যই অপরিহার্য আলো ছাড়া অন্য সব আলো বন্ধ রাখতে হবে। ফ্যান, এসি এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সময়ও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এসি ব্যবহার করার সময় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে। অফিস ছেড়ে যাওয়ার আগে সব বিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।
এই নির্দেশনাগুলো আমেরিকার নিউ ইয়র্কের মতো শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেশি এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণের এই ধারণাগুলো আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও উপযোগী। আমরা যদি এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের বিদ্যুৎ বিল কমাতে এবং পরিবেশের জন্য ভালো করতে পারি।
বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার এবং উপজেলা প্রশাসকদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সরকারি অফিসের কোরিডর, সিঁড়ি এবং শৌচালয়ের আলো ব্যবহার কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অফিসের বাইরে সাজানো আলো ব্যবহার করা উচিত নয় এবং যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি অফিস বিদ্যুৎ সংরক্ষণে সক্ষম হবে এবং এটি আমাদের দেশের বিদ্যুৎ সংকটের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা কমাবে। আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ও এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে বিদ্যুৎ সংরক্ষণে অবদান রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন