বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসে মৃত্যুর হার যখন ম্যালেরিয়া বা অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধির মতোই ভয়াবহ হয়ে উঠছে, তখন আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন এক ধরনের ডায়াবেটিসের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এই বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিস মূলত অপুষ্টিজনিত কারণে হয়ে থাকে, এবং এর শিকাররা অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং বা চিকিৎসাও নিতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, এই প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা আফ্রিকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
অপুষ্টিজনিত ডায়াবেটিসকে অনেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করতে পারেন না। কারণ এর লক্ষণগুলো সাধারণ ডায়াবেটিসের মতোই থাকে, যেমন দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য এবং ওজন হ্রাস। তবে এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা প্রায়শই এমন অঞ্চলের বাসিন্দা হন যেখানে পুষ্টিকর খাবারের অভাব রয়েছে। ফলে তাদের শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আফ্রিকার কিছু অংশে এই সমস্যা মহামারির আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আফ্রিকার প্রায় ২৪ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, এবং এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তাদের রোগ সম্পর্কে সচেতন নয়। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে এই সংখ্যা আরও বেশি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অভাব এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ পান না। ফলে তাদের রোগ আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
অপুষ্টিজনিত ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সাধারণ ডায়াবেটিসের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ইনসুলিন প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশেই ইনসুলিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত। ফলে অনেক রোগীকে নিজেদের জীবন বাঁচাতে অন্য দেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। আফ্রিকার দেশগুলোকে নিজেদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন করতে হবে যাতে তারা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন। অন্যথায়, ভবিষ্যতে এই মহাদেশে ডায়াবেটিস মহামারির রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন