যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি নামী বিশ্ববিদ্যালয় এখন শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব ব্যক্তিগত ঋণ প্রকল্প চালু করছে। এর ফলে মার্কিন সরকারি ঋণের সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে পারবে না এমন শিক্ষার্থীরা এই বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত উচ্চশিক্ষার ব্যয় মেটাতে শিক্ষার্থীরা যখন সরকারি ঋণের বিকল্প খুঁজছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শিক্ষা ঋণ পরিশোধ সংস্কারের ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি ঋণের সীমা অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্নাতকোত্তর স্তরের জন্য জীবনকালীন ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ডলার, যেখানে চিকিৎসা বা দন্তচিকিৎসার মতো পেশাদার কোর্সের জন্য এই সীমা দুই লাখ ডলার। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থীই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়ছেন। ফলস্বরূপ, কলেজগুলি নিজেরা শিক্ষার্থীদের ঋণ দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করছে।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল’ তাদের নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে তারা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ প্রদান করবে, যার সুদের হার হবে স্থিতিশীল ৭.৫ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিন স্টেফানি লিন্ডকুইস্ট বলেন, এই ঋণ প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, ইয়েল ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ স্কুলও একই ধরনের প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে পুরানো গ্র্যাড প্লাস ঋণের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার দেওয়া হবে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে সরকারি ঋণের মতো কোনও সুবিধা পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগত ঋণের সুদের হার সাধারণত বেশি হয়, এবং ঋণ মওকুফ বা পরিশোধ সহজীকরণের মতো কোনও বিকল্প থাকে না। যেমন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যে ঋণ মওকুফের সুবিধা রয়েছে, ব্যক্তিগত ঋণে তা পাওয়া যায় না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ফাঁদে পড়তে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলের আইন প্রণেতারা ইতিমধ্যেই এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সহ অন্যান্য নেতারা ব্যক্তিগত ঋণদাতাদের উপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি ঋণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ঋণের দিকে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকে পড়া তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বাংলাদেশেও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় মেটাতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ঋণ প্রকল্প চালু রয়েছে। তবে যদি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি নিজস্ব ঋণ প্রকল্প চালু করতে শুরু করে, তাহলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে একইসঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উচিত হবে এমন কোনও প্রকল্প গ্রহণ করার আগে এর সুদহার, পরিশোধের শর্তাবলী এবং অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধাগুলি ভালোভাবে যাচাই করে দেখা। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উভয়কেই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্তব্য করুন