মেজর লিগ বেসবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অফসিজন কাটিয়েছে বস্টন রেড সক্স। দলটি তাদের দূর্বলতাগুলো পূরণ করতে দারুণ কিছু ট্রেড ও সাইনিং করেছে। নতুন মৌসুমের জন্য রোটেশনের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা যোগ করেছেন রেঞ্জেস সুয়ারেজ, সনি গ্রে এবং জোহান ওভিয়েদোর মতো নামি পিচারদের। সেইসঙ্গে তিনবারের অল-স্টার প্রথমবেসম্যান উইলসন কন্ট্রেরাসকেও দলে ভিড়িয়েছে তারা। ফ্রি এজেন্সির মাধ্যমে দলটি হারানো অ্যালেক্স ব্রেগম্যানের শূন্যস্থান পূরণ করতে ট্রেড করেছে ২৬ বছর বয়সী প্রতিভাবান ইনফিল্ডার ক্যালেব ডার্বিনকে।
মিলওয়াকি ব্রুয়ার্সের হয়ে অভিষেক মৌসুমেই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন ডার্বিন। এমএলবির বিশেষজ্ঞ জিম বোডেন তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘বস্টন রেড সক্সের নতুন ইনফিল্ডার ক্যালেব ডার্বিন এখন বসন্ত প্রশিক্ষণেই চমকে দিচ্ছেন সবাইকে।’ ব্রুয়ার্সের হয়ে রুকি মৌসুমেই তিনি ন্যাশনাল লিগ রুকি অফ দ্য ইয়ারের ফাইনালিস্ট ছিলেন। তাঁর ডিফেন্সিভ দক্ষতা দুর্দান্ত—দ্বিতীয় ও তৃতীয় বেইসে উভয় স্থানেই তিনি সমান পারদর্শী। দলের ম্যানেজার অ্যালেক্স কোরা ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ডার্বিনই শুরু করবেন তৃতীয় বেইসে আর মার্সেলো মেয়ার খেলবেন দ্বিতীয় বেইসে।
ডার্বিনের মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ও উচ্চমানের বেসবল বুদ্ধিমত্তা। তাঁর ব্যাটিংয়ে রয়েছে শক্তিশালী হিটিং ক্ষমতা, গতি এবং পাওয়ার। বিশেষ করে ফেনওয়ে পার্কের গ্রিন মনস্টারের সুবিধা তাঁর ব্যাটিংকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের বেসবল অপারেশনস প্রেসিডেন্ট ক্রেগ ব্রেসলো বলেছেন, ‘ডার্বিন দলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁর ব্যাট-টু-বল স্কিল, বেসরানিং ও ডিফেন্সív ক্ষমতা দুর্দান্ত। তাঁর উভয় হাতে খেলার ক্ষমতা দলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।’
ডার্বিনের অভিষেক মৌসুমেই তিনি .২৫৮ ব্যাটিং গড়ে ১২টি হোমরান ও ৫০টি আরবিআই করেছিলেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠেছেন—তাঁর চুক্তি চলবে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। গত মৌসুমে প্লেঅফে ফিরে আসা রেড সক্সের জন্য ডার্বিনের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতি দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বস্টন রেড সক্সের নতুন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেওয়া ক্যালেব ডার্বিন এখন দলের অন্যতম প্রধান ভরসা। তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা উৎসুক। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলে তিনি কি পারেন এবার প্লেঅফে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে? সেটাই দেখার অপেক্ষা।
মন্তব্য করুন