ঢাকা, কলকাতা বা অন্য যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে তাকালেই দেখা যায় বছরের এই সময়টা যেন একটা বিশাল ভিড়ের মেলা। বিশেষ করে বসন্ত ও গ্রীষ্মের ছুটিতে মানুষজন বিদেশ যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দেয়। ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট থেকে শুরু করে চেক-ইন কাউন্টার পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। তবে কিছু পূর্বপ্রস্তুতি আর সঠিক কৌশলের মাধ্যমে এই ভিড় সামাল দেওয়া সম্ভব।
বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে সহজ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান কেলি বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট ‘দ্য পয়েন্টস গাই’-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক ভ্রমণকারীদের জন্য নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের ভিড় সামলানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সময় ব্যবস্থাপনা। অর্থাৎ বিমান ছাড়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিত। তবে ব্যস্ত সময়ে তা আরও বেশি হতে পারে। কেলি আরও উল্লেখ করেন, অনলাইনে চেক-ইন করা, ফ্র্যাঙ্ক ব্যাগেজ না নিয়ে হ্যান্ড ব্যাগেজ বহন করা এবং এয়ারপোর্ট অ্যাপ ব্যবহার করা এই ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।
এছাড়া বিমানবন্দরের ভিড় থেকে মুক্তি পেতে আরেকটি কার্যকর উপায় হল বিমানের টিকিট আগে থেকেই কিনে নেওয়া। বিশেষ করে বিমান সংস্থাগুলোর অফারগুলো খেয়াল রাখা। অনেক সময় অফ-পিক সময়ে বা সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ভ্রমণ করলে ভিড় অনেকটাই কম হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে আগে থেকে জেনে রাখা উচিত। যেমন, কোন দেশের বিমানবন্দরে কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে কতটা সময় লাগতে পারে ইত্যাদি। এসব তথ্য জানা থাকলে ভ্রমণকারীরা নিজেদের সময়ের পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে করতে পারবেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরের ভিড় সামলানোর জন্য স্থানীয় সরকার ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঢাকা বিমানবন্দরে প্রায়ই দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। এর জন্য দায়ী মূলত যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন অনলাইনে চেক-ইন ব্যবস্থা চালু করা এবং নতুন ইমিগ্রেশন কাউন্টার স্থাপন। তবে আরও উন্নতি প্রয়োজন। সরকারের উচিত বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করা এবং যাত্রীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা।
এছাড়া বিমানবন্দরের ভিড় সামলানোর জন্য যাত্রীদের নিজেদের মধ্যেও কিছু সচেতনতা থাকা দরকার। যেমন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা, অনাবশ্যক ভারী ব্যাগেজ বহন না করা এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। এছাড়া বিমানবন্দরের ভিতরে বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানা থাকলে যাত্রীরা নিজেদের সময় নষ্ট না করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
পরিশেষে বলা যায়, বসন্ত ও গ্রীষ্মের ছুটিতে বিমান ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করতে হলে যাত্রীদের নিজেদের প্রস্তুতি ও সচেতনতার পাশাপাশি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টাও প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, ভ্রমণ সংস্থাগুলোকেও যাত্রীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তাহলেই বিমানবন্দরের ভিড়কে জয় করে যাত্রীরা নিজেদের ভ্রমণকে উপভোগ করতে পারবেন।
সূত্র: CBC NEWS
মন্তব্য করুন