শীতের তীব্রতা কাটিয়ে বসন্ত আসছে। ঘরের বাইরের আবহাওয়া যেমন পাল্টাচ্ছে, তেমনি ঘরের ভেতরের যত্নও নিতে হবে সমান গুরুত্বে। ঘরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, নালা-ড্রেন, ছাদ থেকে শুরু করে গাছপালা পর্যন্ত সবকিছুরই পরিচর্যা প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই অজ্ঞতা বা অবহেলার কারণে এমন কিছু ভুল করে ফেলেন, যা পরে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাড়ির পরিচর্যায় এমনই আটটি সাধারণ ভুল সম্পর্কে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণা বলছে, বেশিরভাগ মানুষই বসন্তের শুরুতে ঘর পরিষ্কার করলেও নালা পরিষ্কার করা, ছাদের মূল্যায়ন বা প্লাম্বিং পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এড়িয়ে যান। ফলে বর্ষাকাল আসার আগেই ঘরে জল ঢুকা, ছাদ ফুটো হওয়া বা ফাউন্ডেশন দুর্বল হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি এড়াতে এখনই সতর্ক হোন এবং ঘরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
প্রথম ভুলটি হলো নালা পরিষ্কার না করা। ঘরের ছাদের ড্রেনেজ সিস্টেম হিসেবে কাজ করা নালা বছরে অন্তত দুইবার পরিষ্কার করা উচিত। শীতের শেষে পড়ে থাকা পাতা, ডালপালা বা নানা আবর্জনা নালায় জমে থাকলে বর্ষার সময় পানি উপচে পড়ে ছাদের ক্ষতি করে। অনেকেই এই কাজটি গুরুত্ব দেন না, ফলে পরবর্তীতে ছাদের টাইলস, দেয়াল এমনকি ফাউন্ডেশন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এই কাজটি হাত দিয়েই করুন অথবা পেশাদারের সাহায্য নিন।
দ্বিতীয় ভুলটি হচ্ছে ছাদ পরিদর্শন না করা। শীতের তুষারপাত ও ঝড়বৃষ্টি ছাদের টাইলসকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই বসন্তে উঠে ছাদের টাইলস, ফ্ল্যাশিং কিংবা কোনো ডালপালা পড়েছে কি না তা পরীক্ষা করা উচিত। যদি নিজে করতে না পারেন, তাহলে পেশাদার ছাদ নির্মাতাকে ডেকে পরীক্ষা করিয়ে নিন। এতে সমস্যাগুলো আগেই ধরা পড়বে এবং পরবর্তীতে বড় কোনো ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।
তৃতীয় ভুলটি হলো ফাউন্ডেশনের ফাটল উপেক্ষা করা। শীতের তীব্র শীতলতা ও গরমের কারণে কংক্রিটের প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে ফাউন্ডেশনে ফাটল দেখা দিতে পারে। বসন্তে এগুলো উপেক্ষা করলে বরফ গলা পানি মাটিতে প্রবেশ করে আরও ক্ষতি করতে পারে। এমন হলে দ্রুত ফাউন্ডেশন বিশেষজ্ঞকে ডেকে ফাটল মেরামত করিয়ে নিন। তা না হলে ঘরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।
চতুর্থ ভুলটি হলো অ্যালার্জির প্রতি অবহেলা। বসন্তে ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পরাগরেণু বাতাসে মিশে যায়। এগুলো ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে অ্যালার্জির সমস্যা বৃদ্ধি পায়। তাই ঘরের HVAC সিস্টেমের ফিল্টার নিয়মিত পরিবর্তন করুন। তিন মাস অন্তর ফিল্টার পরিবর্তন করা উচিত। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা বেশি, তারা হেপা ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন।
পঞ্চম ভুলটি হলো HVAC সিস্টেমের যত্ন না নেওয়া। শীত শেষে বা গ্রীষ্ম আসার আগে HVAC সিস্টেমটি পরীক্ষা করানো উচিত। শুধু ফিল্টার পরিবর্তন করলেই হবে না, প্রফেশনাল টিউন-আপের মাধ্যমে ইভাপোরেটর ও কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার, কনডেনসেট ড্রেন লাইন পরিষ্কার এবং থার্মোস্ট্যাট ক্যালিব্রেশন করানো উচিত। এতে সিস্টেমটি দক্ষভাবে কাজ করবে এবং সমস্যাগুলো আগেই ধরা পড়বে।
ষষ্ঠ ভুলটি হলো বসন্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এড়িয়ে যাওয়া। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ধুলোবালি, আবর্জনা ঘরের ভেতরে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ঘরের প্রতিটি কোণা পরিষ্কার করুন, চুলা, ফ্রিজ, ওভেন পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে চিমনি পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। এমনকি টাইলসের গ্রাউট পরিষ্কার ও পুনরায় সিল করা উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, ঘরের শক্তির দক্ষতাও বাড়ায়।
সপ্তম ভুলটি হলো প্লাম্বিং পরীক্ষা না করা। শীতের তীব্র শীতলতায় পাইপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বসন্তে পাইপগুলো পরীক্ষা করে যেকোনো ছিদ্র বা লিক ঠিক করে নিন। লনে পানি জমে থাকা বা মাটি ভেজা থাকলে বুঝতে হবে ভূগর্ভস্থ পাইপে সমস্যা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানি ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যায় বলে এখনই সমস্যাগুলো দেখে রাখা জরুরি।
অষ্টম ভুলটি হলো বাগান ও ল্যান্ডস্কেপের প্রতি অবহেলা। শীত শেষে যখন তুষার গলে যাবে, তখন দেখা যাবে চারপাশে পাতা, মরা ঘাস ও আবর্জনা জমে আছে। এগুলো পরিষ্কার করুন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘাসের জায়গায় নতুন ঘাস বুনুন এবং মালচ দিয়ে মাটিকে উর্বর করুন। এছাড়া পেভমেন্ট, ড্রাইভওয়ে বা পাথরের কাজগুলোতে ফাটল বা আগাছা দেখলে সাথে সাথে ঠিক করে ফেলুন। কারণ এগুলো উপেক্ষা করলে পরবর্তীতে আরও ব্যয়বহুল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
মন্তব্য করুন