বগুড়া থেকে ঢাকার পথে সবজি দামের অদ্ভুত যাত্রা। একই শিমের দাম কৃষকের হাতে ৫ টাকা, কিন্তু ঢাকার বাজারে ৭০ টাকা! এই দাম বাড়ার পেছনে কী গোপন? আমরা এই রহস্য উন্মোচন করবো।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই খবর বিশেষ প্রাসঙ্গিক। আমাদের অনেকেই দেশের সাথে সংযুক্ত থাকি, পরিবারের জন্য সবজি পাঠানোর সময় এই দাম বাড়ার সমস্যা সম্মুখীন হয়। বগুড়ার মহাস্থান হাট থেকে শুরু করে ঢাকার কাঁচাবাজার পর্যন্ত সবজির যাত্রাপথে কতো হাতবদল হয়, কতো চাঁদাবাজি হয়, তা জানতে চাইলে এই প্রতিবেদন পড়ুন।
বৃহস্পতিবার সকালে মহাস্থান হাটে কৃষক শহিদুল ইসলাম ১০ মণ টমেটো বিক্রি করেন। প্রতি মণের দাম ৮০০ টাকা থাকলেও, তিনি মাত্র ৭২০০ টাকা পান। কারণ, ২০ কেজি ‘ধলতা’ (অনুষ্ঠানিকভাবে দাম বাদ দেওয়া সবজি) দিতে হয়। এছাড়া হাটের খাজনা ২০ কেজি। এই সব চাঁদাবাজির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষকরা তাদের উৎপাদন থেকে মাত্র ৯০% দাম পান।
এই প্রক্রিয়াটা কেবলমাত্র বগুড়ার মহাস্থান হাটেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকায় কৃষকদের এই ধরনের শোষণ ঘটে। আমাদের অনেক প্রবাসী ভাইবোনেরা দেশে থাকা পরিবারের জন্য সবজি পাঠানোর সময় এই দাম বাড়ার সমস্যা সম্মুখীন হয়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, উৎপাদন এলাকা থেকে ঢাকার বাজার পর্যন্ত সবজি পৌঁছাতে অন্তত পাঁচবার হাতবদল হয়। প্রতিটি ধাপে দাম বাড়ে। হাটের ইজারাদার, পরিবহন মালিক, আড়তদার, পাইকার – সবাই নিজেদের জন্য কিছু টাকা কেটে নেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তা বা পরিবারকে দামের ভার বহন করতে হয়।
এই সমস্যার সমাধান কী হতে পারে? প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আমরা কীভাবে দেশের কৃষকদের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারি? কীভাবে এই মধ্যস্থতাকারীদের হাত থেকে দাম কমাতে পারি? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে হবে।
এই প্রতিবেদনটি আমাদের সমস্ত প্রবাসী পাঠকদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। আমরা দেশের সাথে সংযুক্ত থাকি, আমাদের পরিবার দেশে থাকে। আমাদের সবারই জানা দরকার এই দাম বাড়ার পেছনের গল্প।
Source: Prothom Alo
মন্তব্য করুন