বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দেড় বছরের এক শিশুকন্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ঢাকা থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে রংপুরের কাউনিয়ায় ঈদ উদ্যাপন করতে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বগুড়ার শেরপুর এলাকায় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। বাকি যাত্রীদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া মাইক্রোবাসের চালকসহ আরও কয়েকজন আহত হন। জীবনঘাতী এই দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে রয়ে যাওয়া শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহত শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রী বুধবার সন্ধ্যার পর বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। আলোচনায় তিনি আহত শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং তার চিকিৎসাব্যয় বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনই ছিলেন একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষ ছিলেন। ঘটনার পর তাদের মৃতদেহ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই দাফন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাইক্রোবাসটির অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা চালকের অসতর্কতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও প্রাথমিক প্রতিবেদনে চালকের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রা শুরুর আগে গাড়িটির যন্ত্রাংশে কোনও ত্রুটি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন