ফ্রান্সের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন ধনী ব্যবসায়ী পিয়ের-এদোয়ার স্টেরাঁ। তার বিপুল অর্থ সাহায্যে ফ্রান্স এখন আরও ক্যাথলিক ও আরও পুঁজিবাদী হয়ে উঠছে। তার মূল লক্ষ্য হলো ফ্রান্সকে মুসলিম প্রভাবমুক্ত করা। নিজের কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি হাজার হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে একজন করে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই নির্বাচন রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। স্টেরাঁর এই পদক্ষেপ ফ্রান্সের রাজনীতিতে এক বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
স্টেরাঁর অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ফ্রান্সের দক্ষিণপন্থী রাজনীতির পুনরুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিগুলি মূলত মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে থাকে। তিনি দাবি করেন যে ফ্রান্সকে তার সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করতে হবে এবং ইউরোপের মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তার অর্থায়নে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং দক্ষিণপন্থী আদর্শের প্রচার করছেন।
স্টেরাঁ একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ফ্রান্সের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক কম নয়। অনেকেই তাকে ফ্রান্সের সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। তার কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টেরাঁর প্রচেষ্টা ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
ফ্রান্সের রাজনীতিতে স্টেরাঁর প্রভাব নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন ফ্রান্সের দক্ষিণপন্থী দলগুলিকে শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্টেরাঁর মতো ধনকুবেরদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে, তার সমর্থকেরা দাবি করেন যে ফ্রান্সের ঐতিহ্যিক মূল্যবোধ রক্ষা করা প্রয়োজন এবং স্টেরাঁ সেই কাজটিই করছেন।
রবিবারের পৌরসভা নির্বাচনে স্টেরাঁর অর্থায়নে প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা কেমন ফল করবেন, তা দেখার বিষয়। ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই নির্বাচনের ফলাফল অনেক কিছুই নির্দেশ করবে। স্টেরাঁর কর্মসূচির প্রভাব কতদূর যাবে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্রান্সের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। স্টেরাঁর প্রচেষ্টা ফ্রান্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন