এই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করায় বৈশ্বিক রাজনীতির মোড় ঘুরতে চলেছে। এমতাবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন সিবিএস-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনন’-এর উপস্থাপিকা মার্গারেট ব্রেনন। এছাড়াও একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
বৈশ্বিক রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক বিমান হামলা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য প্রাচ্য নীতিরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথকেও প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। অনুষ্ঠানে মার্কো রুবিও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, অন্যদিকে স্টিভ উইটকফ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
মার্গারেট ব্রেনন তাঁর অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের ইয়েমেন নীতির সমালোচকদের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে মানবিক সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন তোলেন যে, বিমান হামলার ফলে স্থানীয় নাগরিকদের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে। মার্কো রুবিও এই প্রসঙ্গে জানান যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।
অন্যদিকে স্টিভ উইটকফ তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের সামরিক উপস্থিতি ও শক্তির প্রদর্শনই এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।” তাঁর মতে, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির অংশ।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলা পরবর্তীতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। অন্যদিকে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, এই পদক্ষেপ কেবল হুথি বিদ্রোহীদের দমন নয়, বরং মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্যও জরুরি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফেস দ্য নেশন’-এর এই বিশেষ পর্বটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন ব্রেনন। অন্যদিকে মার্কিন সরকারের দাবি, ইয়েমেনে বিমান হামলা কোনও যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিমান হামলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হুথি বিদ্রোহীরা যেহেতু আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই এই পদক্ষেপ অপরিহার্য।
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতির এই ক্রান্তিলগ্নে ‘ফেস দ্য নেশন’-এর এই পর্বটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন ব্রেনন। অন্যদিকে মার্কিন সরকারের দাবি, ইয়েমেনে বিমান হামলা কোনও যুদ্ধের সূচনা নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
মন্তব্য করুন