আমেরিকার জাতীয় টিভি অনুষ্ঠান ‘ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান’-এর গতকালের পর্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসন ইস্যুতে মার্কিন সরকারের ব্যর্থতা। কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেসন ক্রো তাঁর তীব্র সমালোচনা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের অনিয়মিত পরিচালনায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সরকার যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছে, যখন সেই অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য ব্যবহার করা যেত। ক্রো বলেন, “এই যুদ্ধ শুরু করার আগে কংগ্রেসকে জানানো হয়নি। এর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণও ছিল না। তবুও এখন পর্যন্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা বা সমাপ্তির লক্ষ্য নেই।”
ক্রো আরও উল্লেখ করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সরকার দেশবাসীকে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়নি। তিনি বলেন, “আমেরিকানরা প্রতিদিন তিনশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় বহন করছে। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের আশঙ্কা বাড়ছে। কিন্তু সরকারের কাছে কোনো নির্ধারিত পরিকল্পনা নেই।” তাঁর মতে, এই যুদ্ধের কোনো পরিণতি ছাড়াই চলমান থাকা উচিত নয়। সরকারকে অবশ্যই কংগ্রেসকে বিশ্বাসে রাখতে হবে এবং যুদ্ধের বৈধতা সম্পর্কে পরিষ্কার হতে হবে।
অভিবাসন ইস্যুতে সরকারের ব্যর্থতাও তাঁর নজর এড়ায়নি। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির কর্মীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই উপার্জনের জন্য গিফট কার্ডের উপর নির্ভর করছেন। ক্রো অভিযোগ করেন, এই সরকারি স্থবিরতার জন্য রিপাবলিকানরাই দায়ী। তিনি বলেন, “সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সরকারের সমস্ত বিভাগের অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু রিপাবলিকানরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা টিএসএ কর্মীদের বেতন আটকে রেখেছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকলেও তারা জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।”
ক্রো তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন যে তিনি সেনাবাহিনীর জন্য অর্থায়নের বিরোধী নন, তবে তিনি অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “আমরা সেনাবাহিনীর জন্য অর্থ দিয়ে থাকি, কিন্তু সেই অর্থ যেন অডিট ছাড়া অপচয় না হয়। প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।” তাঁর অভিযোগ, সরকার ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর জন্য বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, যা নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করা হয়নি।
এই সাক্ষাৎকারে ক্রো আরও উল্লেখ করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে সাইবার হুমকিও বেড়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা দরকার, কারণ ইরান সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রেও শক্তিশালী।” তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন এই যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার আগে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে তিনি অননুমোদিত যুদ্ধের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করবেন না।
মন্তব্য করুন