মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ঘোষণা করেছে যে তারা সাংবাদিকদের জন্য নতুন প্রেস পরিচয়পত্র ইস্যু করবে ঠিকই, তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের অফিস তুলে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন বিধিনিষেধকে সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করে এক মার্কিন বিচারক যে রায় দিয়েছেন। বিচারক রায়ে বলেছেন যে নতুন বিধিনিষেধ সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের অধিকারকে খর্ব করেছে, যা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের নতুন নিয়মের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেন্টাগনে প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এই নিয়ম অনুযায়ী, সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হতো, নির্দিষ্ট ধরনের তথ্য কেবলমাত্র অনুমোদিত মাধ্যম থেকেই সংগ্রহ করার অনুমতি ছিল এবং কোনো বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত হতো। তবে আদালতের রায়ে এই নিয়মগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়।
বিচারক রায়ে বলেছেন যে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের অধিকারকে খর্ব করা যাবে না। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। নতুন বিধিনিষেধের ফলে সাংবাদিকদের কাজে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হতো বলে অভিযোগ উঠেছিল। অনেক সাংবাদিকই অভিযোগ করেছিলেন যে নতুন নিয়মের ফলে তারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না, যা জনসাধারণের জানার অধিকারকে ক্ষুন্ন করছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তারা নতুন বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেবেন এবং সাংবাদিকদের জন্য নতুন প্রেস পরিচয়পত্র ইস্যু করবেন। তবে একই সঙ্গে তারা পেন্টাগনের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের অফিস তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের যুক্তি হলো, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সাংবাদিকরা এখন অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন, তাই অফিসগুলোর প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। তবে অনেক সাংবাদিকই এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেছেন যে অফিস তুলে দেওয়ার ফলে তাদের কাজের সুবিধা কমে যাবে এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দেবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছেন যে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের অফিস তুলে দেওয়ার ফলে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ কমে যাবে। এছাড়া, নতুন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ফলে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হলেও অফিস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন